বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী, কী হবে ভারতের?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ৩ মার্চ, ২০২৬-এর সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরান হুমকি দিয়েছে যে এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে ভারতের ওপর যে প্রভাব গুলি আসতে পারে।
১. জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি
ভারত তার আমদানিকৃত তেলের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৬৬%) এবং এলএনজি -র অর্ধেক এই পথ দিয়েই নিয়ে আসে।
মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ থেকে ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।
বিকল্প পথ: ভারত বর্তমানে রাশিয়া ও আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর (যেমন ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত) ওপর ভারতের নির্ভরতা এতটাই বেশি যে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হলে বড় সংকট দেখা দেবে।
২. এলপিজি ও রান্নার গ্যাসের টান
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো এলপিজি। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০-৮৫% আমদানি করে এবং এর প্রায় পুরোটাই আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে টান পড়বে এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
৩. মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ বাড়ে।
বাজার দর: শাকসবজি, ভোজ্য তেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
অর্থনীতি: তেলের আমদানি খরচ বাড়লে ভারতের রাজকোষ ঘাটতি বাড়বে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
৪. কৌশলগত তেল ভাণ্ডার ভারতের কাছে জরুরি অবস্থার জন্য প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তবে এই মজুত শেষ হওয়ার আগে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
৫. রপ্তানি ও বাণিজ্যে বাধা
ভারত থেকে চাল, চা এবং অন্যান্য পণ্য মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথ বন্ধ হওয়ায় ভারতের কয়েক হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিমা কোম্পানিগুলো এই পথে জাহাজ চলাচলের জন্য কয়েক গুণ বেশি প্রিমিয়াম দাবি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ৩ মার্চ, ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী, maersk এবং MSC-র মতো বড় জাহাজ সংস্থাগুলো এই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। আমেরিকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিলেও ইরান পিছু হটতে নারাজ।
