ওলি-দেউবাদের দাপট শেষ, কাঠমান্ডুর তখতে প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক মহাবিপ্লবের সাক্ষী থাকল হিমালয় কন্যা নেপাল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নেপালের ক্ষমতার রাশ ধরে থাকা পুরনো রাজনৈতিক দলগুলিকে কার্যত ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিল একঝাঁক তরুণ তুর্কি। নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পথে ‘জেন-জি’র হার্টথ্রব বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP)।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন ৩৫ বছর বয়সী প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহ। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সোমবার বলেন্দ্র শাহ এবং আরএসপি চেয়ারম্যান রবি লামিছানেকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ফোনালাপের কথা শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “আরএসপি চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং অন্যতম নেতা বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। জয়ের জন্য দু’জনকেই অভিনন্দন জানিয়েছি। আমরা দুই দেশের পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি নিশ্চিত আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা ভারত ও নেপালের সম্পর্ককে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে তীব্র ছাত্র ও যুব আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলান সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের সিংহভাগ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ভিড় করে বলেন্দ্র শাহের প্যানেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সমস্ত হিসেব উল্টে দিয়ে আরএসপি এখন এককভাবে ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে।
কে এই বলেন্দ্র শাহ? পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র্যাপার বলেন্দ্র শাহ গত কয়েক বছরে নেপালের যুবসমাজের আইকন হয়ে উঠেছেন। কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই তাঁর এই উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবীণ নেতাদের দুর্নীতি ও স্থবিরতার বিরুদ্ধে তাঁর ‘ক্লিন পলিটিক্স’-এর ডাকই মূলত এই বিপুল জয়ের চাবিকাঠি।
