আজকের দিনেবাংলার আয়না

হাসপাতাল নয়, নাবালিকা পরিচারিকার দেহ মিলল গোডাউনে!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  নাবালিকা পরিচারিকাকে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠল মালিক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল বীরভূমের সাঁইথিয়া। উত্তেজিত জনতা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পঙ্কজ পারেখের বাড়িতে গত দু’বছর ধরে কাজ করত ওই নাবালিকা। সে দেরিয়াপুর অঞ্চলের কাঞ্চননগর বাগডোলা এলাকার বাসিন্দা ছিল। গ্রামেরই এক মহিলার মাধ্যমে সে ওই বাড়িতে কাজে এসেছিল এবং সেখানেই থাকত।

নাবালিকার পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে নাগাদ ওই বাড়িতে কর্মরত লিপী বাউরি নামে এক মহিলা তাঁদের ফোন করে জানান যে নাবালিকা অসুস্থ। তাকে সাঁইথিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবার হাসপাতালে পৌঁছালে তাঁদের জানানো হয়, তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
​আরও অভিযোগ, রামপুরহাট যাওয়ার জন্য একটি টোটো ভাড়া করা হলেও, চালক তাঁদের রামপুরহাট না নিয়ে গিয়ে মদনপুর এলাকার ‘জেইন মার্বেল’ নামক একটি দোকানের গোডাউনের সামনে নিয়ে যায়। সেখানেই নাবালিকার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিজনরা। পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, পঙ্কজ পারেখ ও তাঁর ছেলে শ্রেয়াস পারেখ মিলে নাবালিকাকে খুন করে দেহটি গোডাউনে লুকিয়ে রেখেছিল।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার সকাল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁইথিয়া থানার সামনে জমায়েত হয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

ইতিমধ্যেই পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযুক্ত মালিক ও তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দেহ কেন হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে গোডাউনে রাখা হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *