শুধু বুথে নয়, নজরদারিতে থাকবে আশেপাশেও—জারি হল নয়া নির্দেশিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- নির্বাচনে কারচুপি এবং বুথ দখলের মতো অভিযোগ আটকাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার শুধু বুথের ভেতর বা ভোটগ্রহণের কক্ষেই সিসিটিভি সীমাবদ্ধ থাকবে না, বুথের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বাইরের চত্বর—সবটাই থাকবে ক্যামেরার নজরদারিতে।
নজরদারিতে কী কী থাকছে?
সাধারণত বুথের ভেতরে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। তবে অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে, বুথের বাইরে ভোটারদের ভয় দেখানো বা জটলা পাকিয়ে অশান্তি করা হয়। সেই ফাঁক ভরাট করতেই এই নতুন পদক্ষেপ।
প্রবেশ ও প্রস্থান পথ: ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, তা সরাসরি দেখা যাবে।
বাইরের চত্বর: বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো অবাঞ্ছিত জমায়েত বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা সিসিটিভিতে ধরা পড়বে।
সরাসরি মনিটরিং: কন্ট্রোল রুম থেকে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্তারা সরাসরি এই ফুটেজ দেখতে পারবেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
নির্বাচন কমিশনের মতে, বুথের ভেতর সিসিটিভি থাকায় ছাপ্পা ভোট বা ভেতরে গোলমাল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু বুথের বাইরে প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ এখনো আসে। বুথের আশেপাশে সিসিটিভি থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তা
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই নজরদারি শুরু হয়েছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে বহুতল আবাসন বা স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং এবং সিসিটিভি কভারেজের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। পাশাপাশি, সিসিটিভির ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা যায়।
বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হলেও, সিসিটিভি ফুটেজ যাতে নিরপেক্ষভাবে ব্যবহার করা হয় এবং কোনোভাবেই ভোটারদের গোপনীয়তা নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
