মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজ্য, মোদী–মমতার শ্রদ্ধাঞ্জলি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধে, ভ্রাতৃসম রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের প্রয়াণে বেদনাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। মুকুলপুত্রকে আশ্বাস দিলেন পাশে থাকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়-এর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখেছেন, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি’র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও বহু সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।”
রবিবার গভীর রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল রায়। প্রায় দু’বছর ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শেষ পর্যন্ত জীবনের লড়াইয়ে হার মানতে হল রাজনীতির এই অভিজ্ঞ কৌশলী নেতাকে, যাঁকে একসময় অনেকেই রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলে অভিহিত করতেন।
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন বহু উত্থান-পতনে ভরা। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসেবেও পরিচিতি পান। সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ দলের ভিত শক্ত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বড় শোরগোল ফেলে দেয়।
২০১৭ সালে তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। একই বছর দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কিছুদিন পর, ১১ জুন তিনি আবার পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন। পরে তাঁকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন।
তৃণমূলে ফিরে এলেও আইনগতভাবে তিনি বিজেপির বিধায়ক হিসেবেই থেকে যান। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের কাছে ওঠে, কিন্তু স্পিকার তাঁর পদ খারিজ করতে অস্বীকার করেন। এরপর মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট-এ। হাইকোর্ট তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিধায়ক পদেই বহাল ছিলেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলায় মুকুল রায় কখনও সংগঠক, কখনও কৌশলী নেতা, কখনও আবার বিতর্কের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনই সমালোচিতও হয়েছে। তবে একথা মানতেই হবে, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান হল।
