সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন রক্ষায় এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ এসএসসি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের কারণে কমিশনের কর্মীদের নির্বাচনী ডিউটিতে নিয়ে নেওয়ায় থমকে যেতে পারে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া। এই আশঙ্কা থেকেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্যদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রাথমিক সময়সীমা মার্চের মধ্যে থাকলেও পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করেছে। বর্তমানে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ এবং শিক্ষাকর্মীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে।
এসএসসির মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্য়েই ২৪ জনকে ভোটের কাজের জন্য নিয়ে নিয়েছে। মাত্র ১১ জন কর্মী নিয়ে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো অসম্ভব। এসএসসির দাবি, তারা একটি স্বশাসিত সংস্থা। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের সংস্থার কর্মীদের সরাসরি নির্বাচনের কাজে নিয়োগ করা যায় না। বর্তমানে স্কুলে নিয়োগের ইন্টারভিউ চলছে। এই অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে না, যা পরোক্ষভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার সামিল হবে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করার পর আদালত মামলার অনুমতি দিয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে পারে। ২০১৬ সালের নিয়োগে দুর্নীতির কারণে কলকাতা হাইকোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করেছিল। সেই রায় সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকে। এরপরই স্বচ্ছভাবে নতুন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ইন্টারভিউ স্তরে এসে নির্বাচনের কারণে ধাক্কা খেল কমিশন। এখন দেখার, সোমবার হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে কর্মীদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কি না, নাকি নিয়োগের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয় এসএসসি-কে।
