পুলিশের দ্বারস্থ শ্রাবন্তী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সমাজমাধ্যমে লাগাতার কুরুচিকর মন্তব্য, বডিশেমিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে এবার আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর চেহারা ও ওজন নিয়ে অশালীন ট্রোলিং শুরু হয়। অনেকে মিম বানিয়ে বিদ্রূপ করেন, কেউ কেউ সরাসরি অপমানজনক মন্তব্য করেন যা অভিনেত্রীর মতে সীমা ছাড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওয়েব সিরিজ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র একটি চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ১০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল তাঁকে। চরিত্রটি ছিল ঠাকুরমার অতএব বয়স ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। শিল্পীদের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক, কারণ চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই অভিনয়ের অন্যতম শর্ত। কিন্তু সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নেটপাড়ায় নেতিবাচক আলোচনা ও কটাক্ষ শুরু হয়। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করেছিলেন ভেবেছিলেন সময়ের সঙ্গে ট্রোল থেমে যাবে। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, মন্তব্যের মাত্রা ততই বেড়েছে।
অনেক পোস্টে শুধু চেহারা নিয়েই কটাক্ষ নয়, ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও অপমানজনক কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ধরনের মন্তব্য যে মানসিকভাবে আঘাত দিতে পারে, সে কথাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে যে কাউকে আক্রমণ করা যাবে। বাক স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় ই-মেল মারফত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাইবার সেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাইবার আইন অনুযায়ী, অনলাইনে কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে যা অনেকেই জানেন না।
শ্রাবন্তী আরও বলেছেন, শুধু তিনি নন অনেক শিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এমনকি সাধারণ মানুষও বডিশেমিং ও ট্রোলিংয়ের শিকার হন। এতে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি কারও চেহারা, পোশাক বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা উচিত নয়। সমালোচনা থাকতে পারে, তবে তা হতে হবে সৌজন্যের মধ্যে।
এই ঘটনার পর নেটদুনিয়ায় দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, বলছেন ট্রোলিং বন্ধ হওয়া উচিত। অন্য অংশের মত, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সমালোচনা হবেই কিন্তু সেটি যেন ব্যক্তিগত আক্রমণে না পৌঁছায়। সব মিলিয়ে বিষয়টি আবারও সমাজমাধ্যমে বডিশেমিং ও অনলাইন শিষ্টাচার নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
