সিপিএম-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মধ্য কলকাতার আদালত চত্বরে কার্যরত এক সিপিএম-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হেনস্তার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, তাঁর চেম্বারে কর্মরত একাধিক মহিলা জুনিয়র আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে অনভিপ্রেত আচরণের শিকার হয়েছেন। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক পুলিশি মামলা দায়ের হয়নি এবং অভিযুক্ত আইনজীবীর পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সূত্রের দাবি, সম্প্রতি এক মহিলা জুনিয়র লিখিতভাবে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানান। তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি লিখে সিনিয়র আইনজীবীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন মহিলা জুনিয়র একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।
অসমর্থিত সূত্রের আরও দাবি, অভিযোগ জানানোর পর তা প্রত্যাহার করতে ওই মহিলা আইনজীবীকে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি স্বীকার করেননি।
অভিযোগে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত আইনজীবীর চেম্বারে প্রায় ৩০ জন জুনিয়র কাজ করেন, যাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। চেম্বারের ভিতরে একটি আলাদা অ্যান্টিচেম্বার রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অ্যান্টিচেম্বারেই একাধিক অনভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত। তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, ওই আইনজীবী নিয়মিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে বামপন্থী মতাদর্শের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আদালত চত্বরে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কিছু মহিলা আইনজীবী অনানুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, প্রকাশ্যে মুখ খুলতে অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত বলে জানা গিয়েছে।
আইনজীবী মহলের একাংশের মত, বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, আবার অভিযোগ অসত্য হলে তাও পরিষ্কার হওয়া জরুরি এমনই মত তাঁদের।
এই মুহূর্তে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝেই বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের দিকেই এখন নজর আদালত ও রাজনৈতিক মহলের।
