RTI আইনে বদল? অর্থনৈতিক সমীক্ষার ইঙ্গিতে বিতর্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউপিএ আমলে চালু হওয়া তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) নিয়ে নতুন করে ভাবনার ইঙ্গিত দিল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আরটিআই আইনের মূল চেতনা স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রশাসনিক কাজের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই কিছু নির্দিষ্ট নথি, অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং খসড়া প্রস্তাবকে আরটিআইয়ের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে পাশ হওয়া এই আইনের উদ্দেশ্য কখনওই কেবল কৌতূহল মেটানো বা বাইরে থেকে সরকারি কাজকর্মকে প্রভাবিত করা নয়। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব খসড়া ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসছে, যা প্রশাসনিক কাজের গতি কমাচ্ছে। এমনকি অনেক সরকারি আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলাখুলি মতামত জানাতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কোনও বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট খসড়া প্রস্তাব, অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা বিকল্প মতামত গোপন রাখা যেতে পারে। আরটিআইয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, চাকরিজীবনের রেকর্ড, বদলি সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ না করার বিষয়টি ভাবনাচিন্তার মধ্যে রয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, আরটিআই আইনে সংশোধনের নামে সরকার আসলে তথ্য জানার অধিকারকেই দুর্বল করতে চাইছে। তাঁদের মতে, এতে স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে এবং নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সাধারণ নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
