একদিনেই উধাও ১২.৭ লক্ষ কোটি, রেকর্ড পতন টাকার!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুম্বইঃ- মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ, আর তার আঁচ এসে পড়ছে ভারতের শেয়ার বাজারে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে সোমবার সকালে কার্যত ধসে পড়ল দালান স্ট্রিট। এক ধাক্কায় ২০০০ পয়েন্টের বেশি নেমেছে সেনসেক্স, অন্যদিকে নিফটি পড়েছে প্রায় ৬৫০ পয়েন্ট। বাজার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা।
সোমবার সকালের ট্রেডিং সেশনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সেনসেক্স: একসময় ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯ পয়েন্টে।
নিফটি: ৬৪৭.৬০ পয়েন্ট নেমে হয়েছে ২৩,৮০২.৮৫ পয়েন্ট।
কেবল সোমবার সকালেই ১২.৭৮ ট্রিলিয়ন (১২.৭ লক্ষ কোটি) টাকা লোকসান হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ধরলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম কমে হয়েছে ৯২.৩০ টাকা, যা এ যাবৎকালের সর্বকালীন রেকর্ড নিম্নমুখী পতন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারত মহাসাগরে তেলবাহী জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের জন্য অশনি সংকেত। গত চারটি ট্রেডিং সেশনে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন, যা গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাজার সূত্রে খবর, এদিনের পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং ধাতব সংস্থাগুলির শেয়ার। রাশিয়ার শান্তি প্রস্তাব বা ভারতের মধ্যস্থতার আর্জি সত্ত্বেও কোনো পক্ষই যুদ্ধ বিরতিতে রাজি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইক্যুইটি বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। “যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য স্বাভাবিক হচ্ছে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততক্ষণ ভারতীয় বাজারে স্থিতিশীলতা আসা কঠিন। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
