আইনি জটে আটকে সংস্কার, ধর্মতলায় মাথার উপর ঝুলছে বিপদ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ধর্মতলা মোড়ে একটি বহু পুরনো বাড়ি এখন বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। সেই আইনি জট না কাটায় বাড়িটির সংস্কারের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অথচ বাড়ির একটি ঝুলবারান্দা অত্যন্ত ভগ্নদশায় পৌঁছেছে। যে কোনও সময় সেটি ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বাড়িটি ইতিমধ্যেই কলকাতা পৌরসভার বিপজ্জনক বাড়ির তালিকায় রয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে নোটিসও টাঙানো হয়েছে। কিন্তু যেহেতু বাড়িটি নিয়ে মামলা বিচারাধীন, তাই বড় ধরনের মেরামতি বা ভাঙার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
মতি শীল স্ট্রিট, যা অনেকেই ‘মেট্রো গলি’ নামে চেনেন, সেই রাস্তার গা ঘেঁষে বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে। লেনিন সরণির ঠিক আগে পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল বাড়ির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই চৌরঙ্গি রোড ও জওহরলাল নেহরু রোড। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটির পুরনো অংশের বয়স প্রায় ২০০ বছরের কাছাকাছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি একাধিক অংশে ভাগ হয়েছে। বর্তমানে বাড়ির বিভিন্ন অংশের মালিক আলাদা। একাংশে বহু ভাড়াটে ছিলেন বা এখনও আছেন।
বাড়ির নিচতলায় রয়েছে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পানশালা, আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে আসেন। ঠিক এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরের দিকেই রয়েছে ভাঙাচোরা ঝুলবারান্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারান্দার প্লাস্টার ও চাঙড় জায়গায় জায়গায় খসে পড়ছে। কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। নিচ দিয়ে রয়েছে ব্যস্ত ফুটপাথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কাছেই রয়েছে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন। মেট্রো থেকে বেরিয়ে বহু যাত্রী এই ফুটপাথ ধরেই অফিস, বাজার বা অন্য গন্তব্যে যান। ফলে ঝুঁকি শুধু স্থানীয়দের নয়, অসংখ্য সাধারণ পথচারীর।
ফুটপাথের এক হকার জানান, ভয় লাগলেও উপায় নেই। রোজগারের জন্য বসতেই হয়। তাঁর কথায়, “যে কোনও সময় কিছু পড়ে গেলে কী হবে জানি না। কিন্তু পেটের দায়ে বসতেই হচ্ছে।” এমনই অবস্থায় প্রতিদিন ব্যবসা করছেন আরও অনেক ছোট দোকানদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৮ সাল থেকে এই বাড়ি নিয়ে মামলা চলছে। বিষয়টি হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে। বাড়িটি একাধিক অংশে বিভক্ত হওয়ায় আইনি জট আরও জটিল হয়েছে। একাংশের মালিক জানিয়েছেন, তাঁর অংশে থাকা ভাড়াটেরা জায়গা খালি করেছেন। কিন্তু সেই অংশ এখন আদালতের নির্দেশে রিসিভারের অধীনে রয়েছে। আদালতের নির্দেশ না এলে তিনি সংস্কারের কাজ শুরু করতে পারবেন না।
৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জানিয়েছেন, বিষয়টি বিল্ডিং বিভাগকে জানানো হয়েছে। বিপজ্জনক বাড়ির নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে বাড়িওয়ালা–ভাড়াটে মামলা নিষ্পত্তি না হলে বড় পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। পুরসভার এক কর্তার বক্তব্য, আইনি জট মিটলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, মামলা নিজের গতিতে চলছে। কিন্তু ততদিন সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই ওই ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিপজ্জনক বাড়ির নোটিস থাকলেও বাস্তবে ঝুলে থাকা বারান্দা যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
আইনি লড়াই একদিকে, আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অন্যদিকে। একটি পুরনো বাড়ির সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অজান্তেই ঝুঁকি নিয়ে পথ চলছেন। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন প্রশ্ন একটাই মামলার জট কাটার আগেই কি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ মিলিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিতে পারবে,সেটার দিকেই চোখ সবার।
