Rail : রেলের সোলার ক্যামেরায় সাফল্য …
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ফলে এই ধরনের ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)।
খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকায় গত এক বছরে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রীদের বড় কোনও ক্ষতি না হলেও ট্রেনের জানালা ও কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সব ঘটনায় আরপিএফ মোট ২৬টি মামলা করেছে এবং ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালক ও কিশোর।
আরপিএফ জানিয়েছে, অনেক সময় বাচ্চারা না বুঝে খেলার ছলে এই ধরনের কাজ করে ফেলে। ধরা পড়লে তাদের আদালতে তোলা হয় এবং অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছাড়া হয়। মুচলেকায় বলা থাকে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তার দায় অভিভাবকদের নিতে হবে।
এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য রেল ‘অপারেশন জন জাগুরকতা’ নামে একটি সচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছে। আরপিএফ কর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্থানীয় মানুষজনকে বোঝাচ্ছেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া কতটা বিপজ্জনক এবং এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়াও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। খড়গপুর ডিভিশনের কয়েকটি এলাকায় সৌরশক্তি চালিত সিসিটিভি বা সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গত দু’মাসে মোট ১০টি সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে টিকিয়াপাড়া, উলুবেড়িয়া-বাগনান স্টেশনের মাঝের এলাকা, খড়গপুর ইয়ার্ড, ঘাটশিলা-গালুডি এবং ওড়িশার বালেশ্বর স্টেশনের আগের অংশে।
আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পান্ডা জানান, যেখানে এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে, সেখানে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্যামেরার সাহায্যে দু’টি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
আরপিএফ জানিয়েছে, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া রেলের আইনে গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় ধরা পড়লে রেল আইনের ১৫৩ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল হতে পারে। বর্তমানে শুধু বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের বাইরে ক্যামেরা রয়েছে। অন্য ট্রেনগুলিতে সেই সুবিধা না থাকায় তদন্তে সমস্যা হয়। তবে সোলার ক্যামেরা বসানোয় এখন অপরাধীদের চিহ্নিত করা অনেক সহজ হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও এলাকায় এই ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে।
