স্তব্ধ হতে পারে ভারতের জনজীবন, ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ততটাই গভীর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভারতের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত জ্বালানি আমদানির পথ।
কেন সংকটে ভারত?
ভারতের মোট খনিজ তেলের চাহিদাক প্রায় ৮০ শতাংশই মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। এই আমদানির একটি বিশাল অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। আর এই তেলবাহী জাহাজ চলাচলের প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালী।
ভৌগোলিক গুরুত্ব: এটি পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ জলপথ।
ইরানের প্রভাব: এই প্রণালীর একটি বড় অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে ইরান যদি এই পথটি বন্ধ করে দেয়, তবে ভারতের তেল সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: রান্নাঘর থেকে রাজপথ
যদি এই পথ দিয়ে তেল আসা বন্ধ হয়, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই ভারত এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে:
জ্বালানির হাহাকার: পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
রান্নাঘরে আগুন: ভারতের এলপিজি গ্যাসের বড় অংশ এই পথেই আসে। ফলে সিলিন্ডারের অভাব বা আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলবে।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি: ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজি ও মুদিখানার জিনিসের দাম এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
বিকল্প ভাবনায় সরকার
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ‘কৌশলগত তেল ভাণ্ডার’ ব্যবহারের কথা ভাবছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চললে সেই সঞ্চয় দিয়ে খুব বেশিদিন চলা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞের মত: “হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া মানে ভারতের অর্থনীতির অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়া। ভারত কূটনৈতিক স্তরে চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে পারস্য উপসাগরে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”
