তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ, ফের চালু আগরতলা-ঢাকা ও কলকাতা-ঢাকা বাস পরিষেবা…..
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে তারেক রহমান বসার পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নে দৃশ্যমান বদল। দীর্ঘ ১৮ মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ফের চালু হচ্ছে আগরতলা-ঢাকা ও কলকাতা-ঢাকা আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। সব ঠিক থাকলে আগামী শনিবার থেকেই পুনরায় চাকা ঘুরবে এই মৈত্রী বাসের। আপাতত সপ্তাহে তিন দিন চলবে পরিষেবা। ফলে দু’দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় স্বস্তি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মহম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কিছু ছাত্রনেতার উসকানিমূলক বক্তব্যকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তার জেরে রেল পরিষেবার পাশাপাশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা-ঢাকা বাস পরিষেবা। একইভাবে স্থগিত ছিল ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসও।
নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির বদল শুরু হয়েছে বলেই কূটনৈতিক মহলের অভিমত। বিশেষ করে আগরতলা-র বাসিন্দাদের কাছে এই পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে ঢাকা হয়ে খুব সহজেই কলকাতায় পৌঁছনো যায়। প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের এই যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৮০০ টাকা। তুলনায় ট্রেনপথে গুয়াহাটি হয়ে আগরতলা থেকে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১,৫৬৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের ফলে অনিশ্চয়তা কেটেছে এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাকি সমস্যাগুলোরও দ্রুত সমাধান হবে।
পরিচালনাকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকে পশ্চিম ত্রিপুরার কৃষ্ণনগর ডিপোতে একটি বাস পৌঁছে দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। বহুদিন পর আন্তর্জাতিক এই সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত দুই দেশের যাত্রীরা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
