আজকের দিনেবিশ্ব

ইরানের শাসন ব্যবস্থা উপড়ে ফেলার ডাক নেতানিয়াহুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, তেহরান ও জেরুজালেম: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ এখন চরম সীমায়। একদিকে ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইর কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে তাঁকে ‘আইআরজিসি-র পুতুল’ আখ্যা দিয়ে তেহরানের শাসন ব্যবস্থা উপড়ে ফেলার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ের আবহে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই বাগযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়েছে।

​বৃহস্পতিবার ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডারের কোনো ‘জীবন বিমা’ নেই। মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন-
​অপারেশনাল সাকসেস: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল দিচ্ছে।
ব্যক্তিগত আক্রমণ: মোজতবা খামেনেইকে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর হাতের পুতুল বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
অস্তিত্বের সংকট: নেতানিয়াহুর দাবি, পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে নয়া সুপ্রিম লিডার প্রকাশ্যে আসার সাহস পাচ্ছেন না।
কোমা ও পঙ্গুত্ব: মোজতবার বর্তমান অবস্থা, গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ যৌথ হামলায় প্রাণ হারান মোজতবার স্ত্রী ও আট বছরের পুত্র। সেই হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা নিজেও। সংবাদ মাধ্যমের দাবি, মোজতবা বর্তমানে কোমায় আচ্ছন্ন রয়েছেন। ​তিনি একটি পা হারিয়েছেন এবং তাঁর যকৃৎ ও পাকস্থলী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ​তেহরানের একটি হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের বিছানায় থেকেও আড়াল থেকে নিজের প্রথম ভাষণে কড়া বার্তা দিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের তোয়াক্কা না করে তিনি জানিয়েছেন, কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে, নতুবা হামলা অব্যাহত থাকবে।
​শত্রুপক্ষকে যুদ্ধের সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে। ইরানি জনগণের প্রতি নেতানিয়াহুর আহ্বান
​ইরানের সাধারণ মানুষকে বিদ্রোহের ডাক দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “স্বাধীনতার মুহূর্ত খুব কাছে। আমরা আপনাদের পাশে আছি, কিন্তু শেষ পেরেকটি আপনাদেরই পুঁততে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই যুদ্ধের পর ইরান বা মধ্যপ্রাচ্য—কোনোটাই আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *