বিবস্ত্র দেহ, মুখে সাঁড়াশি! জগৎবল্লভপুরে প্রৌঢ়াকে পৈশাচিক খুনে শিউরে উঠল বাংলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে আসছিল তীব্র পচা দুর্গন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই আঁতকে উঠলেন প্রতিবেশীরা। মেঝেতে পড়ে রয়েছে ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ়ার বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত দেহ। হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানা এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা মহলে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত প্রৌঢ়া গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর স্বামী দুই বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একা ওই বাড়িতেই থাকতেন তিনি। শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। তাঁরা দেখেন, বাড়ির তিনটি দরজাই বাইরে থেকে তালাবন্ধ। এরপর জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখা যায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে প্রৌঢ়ার নিথর দেহ।
খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, প্রৌঢ়ার দেহটি সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। তাঁর মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। এই পৈশাচিক ধরন দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়; বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অপরাধীরা খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চম্পট দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, দিন তিনেক আগেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে এই খুনের নেপথ্যে পরিচিত কেউ নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকায় এই ঘটনার পর থেকে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
