আজকের দিনেভারত

ভারতের সাধারণ মানুষকে রক্ষায় ‘মাস্টারপ্ল্যান’ মোদীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের দোরগোড়ায়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে অস্থিরতার মাঝেই ভারতের সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার, ২২ মার্চ নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক এই লড়াইয়ের প্রভাব যেন কোনওভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেল বা পকেটে না পড়ে।
​প্রধানমন্ত্রী মোদীর পৌরহিত্যে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিদ্যুৎ সুরক্ষা: দেশের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে কোনও বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে।
খাদ্য ও কৃষি নিরাপত্তা: কৃষকদের জন্য সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে যেন খাদ্য সঙ্কট বা আমদানিতে সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প পথের সন্ধান চলছে।
পণ্যের জোগান: ওষুধ, পেট্রোকেমিক্যাল এবং কেমিক্যাল সেক্টরে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
বিকল্প আমদানির পথ: প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানির জন্য নতুন দেশ বা রুট খুঁজে বের করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
​বৈঠকের পর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন-
​”পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক করলাম। আমরা স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি। কৃষকদের জন্য সারের জোগান থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে আমদানির বিকল্প পথ তৈরি—সব বিষয়ই আমাদের নজরে আছে। নাগরিকদের যুদ্ধের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারত তার জ্বালানির বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করে। ইতিমধ্যেই এলপিজি সরবরাহে টান পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। এই পরিস্থিতিতে মোদী সরকারের আগাম সতর্কতা এবং মজুতকরণের নীতি ভারতের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কার হাত থেকে বাঁচাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *