ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন মোদি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ক্রমাগত ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বজায় রাখতে সরাসরি সক্রিয় হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। যুদ্ধের আবহে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এটাই প্রথম ফোনালাপ।
প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আলোচনার কথা জানিয়েছেন। কথোপকথনের প্রধান দিকগুলো হলো,
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালী। ভারত যে এই পথ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত সবসময় শান্তি ও সুস্থিতির পক্ষে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
কেন চিন্তায় ভারত? মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল বাণিজ্য প্রায় থমকে যাওয়ায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই-এর সাম্প্রতিক ঘোষণা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সার্বিকভাবেই বন্ধ রাখা হবে।
এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাগাছির সঙ্গে তিনবার কথা বললেও যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি সুনিশ্চিত করা যায়নি। এমতাবস্থায় মোদির এই হস্তক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
