জ্বালানি সংকট নিয়ে আগামিকাল জরুরি বৈঠকে মমতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল আন্তর্জাতিক বাজার, আর তার আঁচ এসে পড়েছে খোদ বাংলার হেঁশেলে। রাজ্যজুড়ে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবার সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ এবং ২৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মের কড়া সমালোচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনায়, বৃহস্পতিবার নবান্নে এক জরুরি বৈঠক ডাকলেন তিনি।
বুধবার একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনো দিক বিবেচনা না করেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের ভাণ্ডারে বর্তমানে কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, তা সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে জানানোর দাবি তুলেছেন তিনি। মমতার কথায়, “ভাণ্ডারে যা গ্যাস আছে তা প্রতিটি রাজ্যকে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। যোগান অব্যাহত রাখুন, মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজ্য সরকার অর্থের সংস্থান করবে।”
গ্যাসের এই কৃত্রিম সংকটে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে, রাজ্যের বহু স্কুলে গ্যাস না থাকায় মিড-ডে মিলের রান্না ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগীর খাবার তৈরি হয় হাসপাতালে, গ্যাসের অভাবে সেই পরিষেবাও এখন প্রশ্নের মুখে। অটো ও ছোট বাণিজ্যিক গাড়িতে এলপিজি-র টান পড়ায় যাতায়াত খরচ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণের পকেটে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাসের কালোবাজারি শুরু করতে পারে। বৈঠকে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে এই অসাধু চক্র রুখতে কড়া নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। সাধারণ মানুষের ওভেন যাতে জ্বলতে থাকে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা যাতে সচল থাকে, সেটাই এখন রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান এবং জরুরি বৈঠক ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
