‘ধর্ষক’ জ্যোতিষীর সাথে ঘনিষ্ঠতা! তীব্র বিতর্কের মুখে ইস্তফা দিলেন মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের প্রধান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুম্বই: অবশেষে বিতর্কের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রুপালি চাকাঙ্কার। জনৈক স্বঘোষিত জ্যোতিষী তথা গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত অশোক খারাতের সঙ্গে রুপালির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। সেই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেই নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুপালি চাকাঙ্কারের সঙ্গে অভিযুক্ত অশোক খারাতের বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এর মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যায়, রুপালি সযত্নে ওই অভিযুক্তের মাথায় ছাতা ধরে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, অশোক খারাত শ্রী ঈশানেশ্বর মহাদেব মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং রুপালি সেই ট্রাস্টের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে রুপালি দাবি করেছিলেন যে তাঁর সাথে অশোকের পরিচয় যৎসামান্য। কিন্তু বিতর্কের মাত্রা বাড়তে থাকায় এবং বিভিন্ন মহল থেকে পদত্যাগের দাবি জোরালো হওয়ায় তিনি ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠা তথ্য। অভিযুক্ত ৬৭ বছর বয়সী অশোক খারাত নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা আধিকারিক বা ‘ক্যাপ্টেন’ পরিচয় দিতেন। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের নিজের অফিসে ডাকতেন তিনি। অভিযোগ, অফিসে আসা মহিলাদের মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে ধর্ষণ করতেন ওই জ্যোতিষী। সম্পূর্ণ কুকীর্তি রেকর্ড করা হতো ঘরে লুকানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। পুলিশ তল্লাশিতে একটি পেন ড্রাইভ উদ্ধার করেছে, যেখানে ৫৮ জন মহিলার সাথে অশোকের আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।
কেবল রুপালি চাকাঙ্কারই নন, অশোক খারাতের প্রভাবশালী মহলে যাতায়াত ছিল ঈর্ষণীয়। বহু খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে তাঁর নিয়মিত আনাগোনা ছিল। মহারাষ্ট্র পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের শিকড় কতদূর তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: অভিযুক্তের সাথে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে ৫৮ জন মহিলার ভিডিও পাওয়ার বিষয়টি এই অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
