আজকের দিনেতিলোত্তমা

ডোরিনা ক্রসিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তালিকায় (SIR) ব্যাপক অসংগতি এবং প্রচুর মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ফের রাজপথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসতে চলেছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের আগে বঞ্চনার এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ানোই ঘাসফুল শিবিরের মূল লক্ষ্য।

​শুক্রবার সকাল থেকেই ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং ও মেট্রো চ্যানেল চত্বরে সাজ সাজ রব। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মেট্রো চ্যানেলের সামনে বিশালাকার মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ধর্মতলা চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার পুলিশ কর্মী। ডিসি পদমর্যাদার অফিসাররা নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন। ধরনা চলাকালীন যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সেদিকে নজর রেখে ট্রাফিক ডাইভারশনের পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ।

​তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু যোগ্য উপভোক্তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ এর ফলে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তিনি চুপ করে বসে থাকবেন না। আজকের এই ধরনা সেই আন্দোলনেরই অঙ্গ। এই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা খুব স্পষ্ট। রক্ষা করতে হবে সাধারণের ভোটাধিকার। জানা যাচ্ছে, এই কর্মসূচিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশে থাকবে ভুক্তভোগী ভোটারদের একাংশ। যাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন, তাঁরাও থাকবেন।

​সকাল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ধর্মতলার দিকে রওনা হতে শুরু করেছেন। দলের প্রথম সারির নেতারা ইতিমধ্যেই সভাস্থলে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, “বাংলার মানুষের হকের পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।” তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষায় এবার পথে নামা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই! অতএব, নিজের পরীক্ষিত ও সফল রাজনৈতিক হাতিয়ার ফের প্রয়োগ করতে চলেছেন মমতা। বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষী, যখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে, যখনই বাংলার মানুষকে চাপে ফেলার চেষ্টা হয়েছে, তখনই মমতা পথে নেমেছেন। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে শুক্রবার দুপুর থেকে ধর্মতলাই ঠিকানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।  রাজনৈতিক দিক থেকে এই ডোরিনা ক্রসিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক ২০ বছর আগে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের যে ধরনা অনশন মঞ্চ থেকে বঙ্গে পরিবর্তনের সূচনাটা হয়েছিল, সেই একই মঞ্চে আবারও ধরনায় বসতে চলেছেন মমতা। এবারে লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন ‘বেআইনিভাবে’ বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র করছে, সেটা রুখে দেওয়া।

​বিকেল গড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উপস্থিত হবেন এবং সেখান থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *