অন্তঃপুরে ‘পরকীয়া’, স্ত্রীর হাতে নাতে ধরা পড়লেন কেরলের মন্ত্রী!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,তিরুবনন্তপুরম: বাড়ির বেডরুমে অন্য মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্বামীকে ধরে ফেলেছেন খোদ স্ত্রী! আর সেই স্বামী যদি হন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী, তবে শোরগোল পড়া স্বাভাবিক। কেরলের পরিবহণ মন্ত্রী কেবি গণেশ কুমারের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী বিধু মেনন। এই ঘটনায় বাম শাসিত কেরলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিধু মেনন দাবি করেন, কোল্লাম জেলার বালাকোমে তাঁদের নিজস্ব বাসভবনেই এই ঘটনা ঘটে। মেননের কথায়, ”সেদিন আমি বাড়িতে গিয়ে সরাসরি বেডরুমে ঢুকি। সেখানে যা দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দু’জনকে দেখি। আমি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল বের করে ছবি ও ভিডিও তুলে রাখি, যা আজও আমার কাছে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।” অভিযোগ আরও গুরুতর, কারণ মেনন জানিয়েছেন যে সেই সময় ছবি তুলতে গেলে মন্ত্রীর গাড়ি চালক তাঁকে বাধা দেন এবং পরবর্তীকালে মন্ত্রীর অন্যান্য কর্মীরা তাঁকে শারীরিক হেনস্থা ও মারধর করেন।
বিধু মেননের দাবি, গণেশ কুমারের একাধিক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রথম স্ত্রী ইয়ামিনী থানকাচির সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের পর বিধুকে বিয়ে করেছিলেন কুমার। কিন্তু বিয়ের অল্প সময় পর থেকেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। মেনন জানান, অশান্তি চরমে পৌঁছালে তিনি তাঁর আত্মীয় তথা কেরলের প্রাক্তন ডিজি এবং বিজেপি নেত্রী আর শ্রীলেখার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিধুর অভিযোগ, তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে মন্ত্রী তাঁর ফোন ট্র্যাক করতেন এবং পাল্টা তাঁর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতেন। বর্তমানে এই তিক্ততার কারণে গত কয়েক মাস ধরে তাঁরা আলাদা থাকছেন বলে জানা গেছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী কেবি গণেশ কুমার। তাঁর দাবি, সামনে নির্বাচন বলেই তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ধরনের ‘স্ক্রিপ্টেড’ গল্প সাজানো হচ্ছে। অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে কিছুটা দার্শনিক ঢঙেই মন্ত্রী বলেন, “অনেকেই আমায় ভালোবাসেন, আমিও অনেক মানুষকে ভালোবাসি। কেবলমাত্র ঈর্ষান্বিত লোকেরাই এই সব ভিত্তিহীন কথা বলছেন।” তাঁর মতে, এই গোটা বিষয়টিই বিরোধী শিবিরের একটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ চাল।
বাম সরকারের মন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও চারিত্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অস্বস্তিতে পিনারাই বিজয়নের সরকার। বিরোধীরা ইতিউতি এই নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে। এখন দেখার, বিধু মেনন তাঁর কাছে থাকা তথাকথিত ‘ভিডিও ফুটেজ’ শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে আনেন কি না।
