আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নাবিশ্বভারত

​চৈত্রেই কালবৈশাখীর তাণ্ডব! ১০০০ কিমি দীর্ঘ বিরল মেঘপুঞ্জে ঢাকা ভারত-সহ ৩ দেশ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ ক্যালেন্ডারে চৈত্র মাস। চড়া রোদ আর কাঠফাটা গরমে হাঁসফাঁস করার কথা থাকলেও, প্রকৃতির মেজাজ এবার সম্পূর্ণ উল্টো। আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারত— প্রায় এক হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল মেঘের চাদরে ঢাকা পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এই অদ্ভুত এবং বিরল ‘রৈখিক’ পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবহাওয়াবিদদের।
কেন এই আবহাওয়া ‘অস্বাভাবিক’?
​সাধারণত শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে আসা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে তুষারপাত ঘটায়। শীত শেষে এর দাপট কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু এবারের চিত্রটা বিস্ময়কর। মার্চের শেষে এসেও ১,০০০ কিলোমিটার লম্বা এক সরলরেখার মতো নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা কার্যত নজিরবিহীন। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ।
যেখান থেকে আসছে এই বিপুল জলরাশি
​এই দুর্যোগের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক জলভাগের ভূমিকা। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন-
প্রাথমিক উৎস: ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণ সাগর এবং পারস্য উপসাগর।
​শক্তি বৃদ্ধি: মেঘপুঞ্জ যখন আরব দুনিয়ার ওপর দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়েছে, তখন আরব সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প শুষে নিয়ে তা আরও শক্তিশালী ও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
বৃষ্টির কারণ: এই বিশাল মেঘপুঞ্জ হিমালয়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে এখন পাহাড় ও সমতলে অঝোরে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।
​ভারতের কোথায় কোথায় সতর্কতা?
​এই বিশালাকার মেঘপুঞ্জ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্যোগ নামিয়ে এনেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী-
উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দিল্লি ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ, ঝোড়ো হাওয়া (৪০-৮০ কিমি/ঘণ্টা) এবং তাপমাত্রার পতন।
পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম উপ-হিমালয় এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা।
উত্তর-পূর্ব ভারত (অসম) প্রবল দুর্যোগের সম্ভাবনা।
দক্ষিণ ভারত কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির দাপট।
রাজস্থান ও হরিয়ানা প্রবল শিলাবৃষ্টির ভ্রুকুটি।
স্বস্তির আশা কি ক্ষীণ?
​হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, বর্তমান ঝঞ্ঝার দাপট শুক্রবার পর্যন্ত চলার কথা। তবে রোদঝলমলে আবহাওয়ার আশা এখনই নেই। আগামী ২২ মার্চ থেকে আরও একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ধেয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মার্চের শেষে চৈত্র সেলের বাজারে গরমের বদলে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির দাপটই বহাল থাকতে পারে।  “এই ধরনের রৈখিক মেঘপুঞ্জ সচরাচর দেখা যায় না। এটি সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে, যা কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য উদ্বেগের।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *