ভোটের ৫ দিন আগেই কি আধা সেনার হাতে যাচ্ছে শাসনদণ্ড? কমিশনের নতুন ‘কড়া’ পদক্ষেপে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কি একপ্রকার ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হতে চলেছে? ভোটগ্রহণের ৫ দিন আগে থেকে থানাগুলিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব আধা সেনার হাতে তুলে দেওয়ার যে ইঙ্গিত কমিশন দিয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই নতুন পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটগ্রহণের ৫ দিন আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব আধা সেনার হাতে চলে যাবে। পুলিশের ভূমিকা থাকবে কেবল কেস ডায়েরি লেখা এবং নির্দিষ্ট কিছু আইনি পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমনকি ভোটের দিন বুথের লাইন সামলানো বা ভোটারদের সহায়তা করার কাজেও রাজ্য বা কলকাতা পুলিশকে রাখা হবে না। বদলে এই দায়িত্ব পালন করবেন বুথ স্তরের আধিকারিক এবং আধা সেনার জওয়ানেরা। বিরোধীদের দাবি, এটি আদতে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় হস্তক্ষেপ এবং একপ্রকার পরোক্ষ শাসন জারি করার চেষ্টা।
শুধু মাঠের নিরাপত্তা নয়, ভার্চুয়াল জগতেও রাশ টানতে তৎপর কমিশন। প্রার্থীদের এখন থেকে মনোনয়নপত্রের হলফনামায় তাঁদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
কোন প্ল্যাটফর্মে কয়টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে? কোনগুলি ভেরিফায়েড বা স্বীকৃত অ্যাকাউন্ট? এই সমস্ত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও, ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো বিজ্ঞাপন দিতে গেলে এখন থেকে মিডিয়া সার্টিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটির আগাম অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া বিজ্ঞাপন দিলে তা নির্বাচনি বিধিভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
ভুয়ো খবর ও ‘পেইড নিউজ’-এ কড়া নজর
শুক্রবার ভুয়ো খবর রুখতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে কমিশন। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেটে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বা টাকা দিয়ে খবর পরিবেশন করা হচ্ছে কি না, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাবে জেলা ও রাজ্য স্তরের এমসিএমসি। কারো অভিযোগ থাকলে তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নেতৃত্বাধীন আপিল কমিটিতে আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে এই মাসেই আরও ২,০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে দাবি। সোমবারই প্রথম দফার এবং ওই সপ্তাহেই দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ইদের ছুটির কারণে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে সোমবার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধীরা বারবার দেশে ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ চলার যে অভিযোগ তুলেছেন, কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
