আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

রাজনীতির ময়দানে সিপিএমের নতুন ‘মুখ’ আইনজীবী আফরিন বেগম?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কি ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ভাঙন আর দলবদলের রাজনীতির আবহে বঙ্গ সিপিএম কি তবে নতুন তুরুপের তাস খুঁজে পেল? সোমবার কলকাতায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেই বৈঠকে সেলিমের সঙ্গী হিসেবে বর্ষীয়ান নেতা শমীক লাহিড়ীর পাশাপাশি নজর কাড়লেন এক তরুণ মুখ— আফরিন বেগম। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেলিম নিজেই আফরিনের পরিচয় করিয়ে দেন এবং জানান, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সিইসি-র কাছে আফরিনই উত্থাপন করেছেন। এরপরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— কে এই আফরিন বেগম? আর কেনই বা তাঁকে জাতীয় স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সামনে আনল আলিমুদ্দিন?

​আফরিন বেগম পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী। ফৌজদারি ও সাংবিধানিক মামলায় তাঁর সওয়াল করার দক্ষতা আইনজীবী মহলে ইতিপূর্বেই পরিচিতি পেয়েছে। বামপন্থী ছাত্র ও যুব আন্দোলনের পথ পেরিয়ে তাঁর এই উত্থান। ২০২৫ সালের রাজ্য সম্মেলনে যখন সিপিএম তাদের রাজ্য কমিটিতে বড়সড় রদবদল আনে, তখনই আফরিনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই তাঁর মূল সাংগঠনিক ভিত্তি বলে জানা যায়।

​সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার দাপুটে যুব নেতা প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান সিপিএমের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। কিন্তু মহম্মদ সেলিম একে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেলিমের মতে, তৃণমূল বা বিজেপির কাছে ভাড়টে নেতা থাকলেও সিপিএম বিশ্বাস করে ‘অরগানিক লিডারশিপ’ বা নিজস্ব পরিমণ্ডলে লড়াইয়ের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নেতৃত্বে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফরিন বেগম সেই ‘অরগানিক’ নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পেশাগত পরিচিতি এবং লড়াকু মানসিকতা— এই দুইয়ের মিশেলে আফরিনকে তুলে ধরে সেলিম আসলে বুঝিয়ে দিলেন, দলত্যাগী নেতাদের বিকল্প তৈরির ক্ষমতা বামেদের ফুরিয়ে যায়নি।

​সিইসি-র দরবারে আফরিনকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত দলের অতি ঘনিষ্ঠ এবং নীতি-নির্ধারণী স্তরের নেতাদেরই এ ধরনের সংবেদনশীল বৈঠকে রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের সামনে নতুন ভোটারদের সমস্যা নিয়ে আফরিন যেভাবে সওয়াল করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে দলের অন্দরে তাঁর গুরুত্ব বাড়ছে।

​সংখ্যালঘু ও তরুণ মুখ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারে আফরিনের মতো উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ মুখ সিপিএমের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বা ফুয়াদ হালিমের মতো পেশাদার এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে রেখে বামেরা বরাবরই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের আকর্ষণ করতে চায়। আফরিন সেই পথেরই পথিক। এখন প্রশ্ন হলো, ২০২৬-এর বিধানসভা বা তার আগে কোনো উপ-নির্বাচনে কি আফরিনকে প্রার্থীর লড়াইয়ে দেখা যাবে? আলিমুদ্দিন সরাসরি কিছু না বললেও, যেভাবে তাঁকে জাতীয় মঞ্চে প্রজেক্ট করা হচ্ছে, তাতে জল্পনা তুঙ্গে। সেলিমের ‘নতুন প্রজন্ম’ গড়ার কারখানায় আফরিন যে এখন সামনের সারির সৈনিক, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *