ইরানের মন জয়, ভারতের জন্য খুলল হরমুজ প্রণালীর দ্বার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন যুদ্ধের দামামা তুঙ্গে, তখন ভারতের জন্য এল এক বিরাট স্বস্তির খবর। মোদি সরকারের তুখোড় কূটনৈতিক চালে শেষ পর্যন্ত বরফ গলল তেহরানের। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মাঝেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিল ইরান।
সূত্রের খবর, গত দুই সপ্তাহ ধরে পর্দার আড়ালে চলা নিরবচ্ছিন্ন ‘ব্যাক চ্যানেল’ আলোচনার পর এই সাফল্য এসেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির মধ্যে দফায় দফায় ফোনালাপ এই জট খুলতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টার ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিয়ে দুই নেতার বিস্তারিত আলোচনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়।
বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইউরোপের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। ইরান সমর্থিত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড ফোর্স এই এলাকা কড়া নজরদারিতে রাখলেও ভারত এখন সেই হাতেগোনা দেশের তালিকায় নাম লেখাল যারা এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। যাদের অনুমতি আছে: রাশিয়া, চিন এবং এখন ভারত। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা- ইজরায়েল, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ।
এই অনুমতির সুফলও মিলতে শুরু করেছে হাতেনাতে। জানা গেছে, হরমুজের ওপারে আটকে থাকা ভারতের দুটি পণ্যবাহী জাহাজ— ‘পুষ্পক’ এবং ‘পরিমল’ ইতিমধ্যেই নিরাপদে প্রণালী পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তার খাতিরে এটি ভারতের জন্য এক বিশাল জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ”পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার ছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর এই মৌখিক সম্মতি ভারতের শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।” — সংশ্লিষ্ট সূত্র
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের ওপর তার প্রভাব অনেকটা কম পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
