আজকের দিনেবিশ্ব

উত্তর উপসাগরে মার্কিন তেলবাহী জাহাজে ইরানের মিসাইল হামলা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে একটি মার্কিন তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং বর্তমানে এটি সমুদ্রের মাঝেই জ্বলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

​ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি মিসাইল ছোঁড়া হয়। হামলার পরপরই জাহাজটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আকাশছোঁয়া ধোঁয়ার কুণ্ডলী দূর থেকে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে জাহাজটির নাম বা এতে থাকা নাবিকদের হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

​আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন এই ট্যাঙ্কারটি ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে চলাচল করছিল। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে— যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে।
​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমেরিকা, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী কোনো দেশের সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই এলাকা দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​উত্তেজনার প্রেক্ষাপট ​গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘IRIS Dena’ ডুবে যাওয়ার এবং ৮০ জনের বেশি ইরানি নাবিকের মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান এই পালটা হামলা চালালো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সতর্ক করে বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই নৃশংসতার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।”

​এই হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। এই পথটি কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
​যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হামলার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে পেন্টাগন জানিয়েছে তারা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *