Iran : হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কৌশলের পথে ইরান !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিগত ২৮ শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। ইরান ও এই দুই রাষ্ট্রের বন্ধু দেশ গুলিতে পাল্টা হামলা করেছে । প্রচুর ড্রোন, মিসাইল একপক্ষ আরেক পক্ষের উপর বর্ষণ করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয় ইরানের পক্ষ থেকে । বিশ্বজুড়ে জ্বালানিতে তেল ও গ্যাসের সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয় । সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে । শেয়ারবাজার ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে। এবার এই আবহে নতুন কৌশলের পথে তেহরান। শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী আবার চালু করার কথা ভাবছে তারা।
সূত্রের খবর ইরান চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেনের শর্ত দিতে পারে । বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে । সেক্ষেত্রে আমেরিকান ডলারের বদলে ইউয়ানের ব্যবহার চালু হলে আমেরিকার অর্থনীতিতে ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে । যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরুর দিন থেকে শুধুমাত্র চীন ও রাশিয়াকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যাতায়াতের অনুমতি দিয়ে রেখেছিল ইরান । এখনো অবধি চিনকে ১১.৭ থেকে ১৬.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে ইরান । চিন ইউয়ান দিয়েই বাণিজ্য করে থাকে ।যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন । ধারেভারে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে । এবার সেই লড়াইয়ে কার্যত ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করল তারা। হরমুজ প্রণালী গোটা বিশ্বের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই পথের গুরুত্ব অপরিসীম। এবার ইরানের যে শর্ত দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সেটা বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিশ্বের বাকি দেশ গুলি মেনে নেয় তাহলে আমেরিকার ডলার এর দাম পতনের দিকে যাবে । সেক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়ার সম্ভাবনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ।
প্রসঙ্গত আমেরিকান ডলার দিয়ে জ্বালানি কিনতে দেশগুলির অনেক মুদ্রা খরচ হয়ে যায় । এবার ইউয়ানে লেনদেন করলে সেই খরচ অনেকখানি কমবে । সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অনেকটা বেগ পেতে হতে পারে আমেরিকাকে । বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার দেখার অপেক্ষা এটাই এর পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কোন কূটনীতির প্রয়োগ করেন কিনা ।
