পদত্যাগ করলেন ইন্ডিগো বিমান সংস্থার সিইও
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শীর্ষ পদে বড়সড় রদবদল দেখা দিল। পদত্যাগ করলেন সিইও পিটার এলবার্স। আপাতত দায়িত্ব সামলাবেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল ভাটিয়া। গতকাল ১০ মার্চ মঙ্গলবার ইন্ডিগো বিমান সংস্থার তরফে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগো সংস্থার বিমান পরিষেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। সেই কারণেই সংস্থার শীর্ষ আধিকারিক পদত্যাগ করলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিগো সংস্থার একশোর বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছিল । যার কারনে সমস্যায় পড়েছিলেন তিন লাখের মতো যাত্রী। ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ডিজিসিএ ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। এবং সংস্থাটির উপর সেই সময় ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা ধার্য করেছিল ডিজিসিএ। সংস্থার অভ্যন্তরে ব্যাপক চাপের কারণেই হয়তো শীর্ষ কর্তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে ধারণা সকলের। প্রসঙ্গত বিগত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইন্ডিগো বিমান সংস্থার সিইও পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন পিটার এলবার্স। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিমান পরিষেবায় ত্রুটির কারণে তার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছিল। এরপর প্রায় আড়াই মাসের মাথায় গতকাল ১০ই মার্চ তিনি পদত্যাগ করলেন । কারণ হিসেবে তিনি পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেছেন ” গত কয়েক বছর ইন্ডিগোর সিইও হিসেবে কাজ করা আমার কাছে বিশেষ সম্মানের । এই এই সংস্থার উন্নতির যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত” । সূত্রের খবর ফ্লাইট বিপর্যয়ের ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল ডিজিসিএ সেই রিপোর্টে উঠে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। অতিরিক্ত অপারেশনাল চাপ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, দুর্বল সফটওয়্যার ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনার কিছু ত্রুটি এইসব কারণ মিলিয়ে বিগত ডিসেম্বরে বড়সড় সংকট ইন্ডিগো বিমান পরিষেবায় দেখা দিয়েছিল ।
এদিকে সিইও পদ ছাড়ার পর কর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন রাহুল ভাটিয়া। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘Main hoon na’ – অর্থাৎ কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ভাটিয়ার কথায়, “গত ডিসেম্বরে যা ঘটেছে, তা কখনও হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের গ্রাহকরা যেমন এর যোগ্য ছিলেন না, তেমনই আপনারাও নন – বিশেষ করে সামনের সারিতে কাজ করা কর্মীরা, যাঁদের কোনও দোষ না থাকলেও পরিস্থিতির চাপ সামলাতে হয়েছে।”
