ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আঁচে তপ্ত ভারতের রান্নাঘর; সংকট মেটাতে মোদির ‘কোভিড জয়ের’ মন্ত্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে শুক্রবার এনএক্সটি সম্মেলনে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপদে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ঠিক যেমনভাবে ভারত কোভিড যুদ্ধ জয় করেছিল, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর ওপর ভরসা রেখে আমরা এই গ্যাস সংকটও কাটিয়ে উঠব।”
গত ১৩ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধের জেরে ইরান বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা লাগে। যদিও সম্প্রতি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান, তবুও সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া ঘাটতি মেটানো যায়নি। এর ফলে, গৃহস্থ ও বাণিজ্যিক— উভয় প্রকার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান কার্যত বন্ধ। জোগান ঠিক রাখতে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
গ্যাসের এই হাহাকারের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাঁরা কালোবাজারি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারগুলিকেও এ বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন,
অমিত শাহ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), এস জয়শংকর (বিদেশমন্ত্রী), হরদীপ সিং পুরী (পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী)।
গ্যাসের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি এবং বুকিং বিভ্রাটের জেরে নাজেহাল আমজনতা। অনেক জায়গায় হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে মানুষ এখন বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ও বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন। হু হু করে বাড়ছে এসব যন্ত্রের বিক্রি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে নাগরিকদের ন্যূনতম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। সরবরাহ ব্যবস্থার বাধাগুলি কাটাতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক— উভয় পথেই হাঁটছে দিল্লি।
