৯২ পেরিয়ে তলানিতে ভারতীয় টাকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুম্বইঃ- মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হওয়া কালো মেঘের ছায়া এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের অর্থনীতিতে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক হারে পুঁজি তুলে নেওয়ার ধাক্কায় সোমবার সকালে ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন ঘটল। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯২.৩০ টাকা, যা ভারতের ইতিহাসে টাকার সর্বকালীন সর্বনিম্ন দাম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল। গত ৪ মার্চ প্রথমবার টাকার দাম ৯২ টাকার গণ্ডি টপকে ৯২.১৭ টাকায় পৌঁছেছিল। সোমবার সেই রেকর্ড ভেঙে টাকা আরও ১০ পয়সা দুর্বল হয়ে ৯২.৩০-এ গিয়ে ঠেকল। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় লগ্নিকারীদের ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে ডলার আঁকড়ে ধরার প্রবণতাই টাকার এই হাল করেছে।
টাকার পতনের সমান্তরালে দালাল স্ট্রিটেও নেমেছে হাহাকার। সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই সেনসেক্স এক ধাক্কায় ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট এবং নিফটি ৬৪৭.৬০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-
ব্যাঙ্কিং সেক্টর: সুদের হারের অনিশ্চয়তা ও লগ্নিকারীদের বিক্রির চাপে ধুঁকছে ব্যাঙ্কগুলি।
আইটি সেক্টর: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে ধস নেমেছে।
ধাতব শিল্প: যুদ্ধের প্রভাবে কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রক্তাক্ত এই ক্ষেত্রটিও।
তেহরানসহ ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তছনছ হওয়া এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পালটা হামলা শুরু করেছে ইরান। জর্ডন, সৌদি আরব, কুয়েত ও তুরস্কের মতো দেশগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর ফলে ভারত মহাসাগরে কোনো নতুন তেলবাহী জাহাজ ঢুকতে পারছে না, যা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় বিপদ।
রাশিয়া, চিন ও ভারতের মতো দেশগুলো বারবার শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুযুধান দুই পক্ষই অনড়। ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে এবং তেলের যোগান স্বাভাবিক না হলে ভারতীয় টাকার দাম আরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সাবধানী বিনিয়োগকারীরা এখন ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
