মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের পথে ইন্ডিয়া জোট; সংগ্রহ ১৩০-র বেশি সই
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা ও দিল্লি: ভারতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সংঘাতের আবহ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের উভয় কক্ষে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করল বিরোধী শিবির। এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই প্রস্তাব পেশের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও বেশি সাংসদের স্বাক্ষর ইতিমধ্য়েই সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগের ভিত্তিতে এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি এককাট্টা হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসসহ জোটের অন্য শরিকরাও এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী লোকসভায় ১০০ জন সাংসদের সই প্রয়োজন হলেও, প্রায় ১৩০ জনেরও বেশি সাংসদ ইতিমধ্য়েই খসড়া প্রস্তাবে সই করেছেন। অন্যদিকে
রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সইয়ের প্রয়োজন থাকলেও, সেখানে ৬০ জনেরও বেশি সাংসদ সই করেছেন বলে সূত্রের দাবি।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই কাজের জন্য দুই কক্ষের দক্ষ সাংসদদের দায়িত্ব দিয়েছে। লোকসভায় স্বাক্ষর সংগ্রহের মূল দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূলের উপ-দলনেতা শতাব্দী রায়। চলতি বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে জোটের সাংসদদের পাশাপাশি কয়েকজন নির্দল সাংসদের সমর্থনও জোগাড় করেছেন। রাজ্যসভায় সংসদের উচ্চকক্ষে বিরোধী সাংসদদের এককাট্টা করার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ এবং জটিল। সই সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রস্তাবটি সংসদের দুই কক্ষে জমা দেওয়া হবে। এরপর:
স্পিকার ও চেয়ারম্যানের ভূমিকা থাকছে। লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রস্তাব গৃহীত হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সংসদে বিতর্ক ও ভোটাভুটি হবে। প্রস্তাবটি পাস করতে সংসদের উভয় কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবং মোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের বেশি সমর্থন প্রয়োজন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার সাফল্য নিয়ে সংশয় থাকলেও, সংসদের ভেতরে সরকারকে কোণঠাসা করতে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এটি বিরোধীদের একটি বড় রাজনৈতিক চাল।
