চিকনি চামেলির মতো আর আশ্লীল গান গাইব নাঃ শ্রেয়া ঘোষাল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- কলকাতা ভারতীয় সংগীত জগতের মেলোডি কুইন এবং চারবারের জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল এক অত্যন্ত সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন। বিনোদন জগতের চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের তোয়াক্কা না করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভবিষ্যতে ‘চিকনি চামেলি’-র মতো দ্ব্যর্থবোধক শব্দযুক্ত বা অশ্লীল ঘরানার গানে তিনি আর কণ্ঠ দেবেন না। কেরিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভক্তমহল এবং সংগীত সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীত জীবন ও ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শ্রেয়া। তিনি জানান, একজন শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি তাঁর বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি কারণ আছে।
শ্রেয়ার মতে, চটুল কথা বা সাময়িক উত্তেজনার গান খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়। তিনি চান এমন গান গাইতে যা কয়েক দশক পরেও মানুষ সমানভাবে শুনবে।
একজন মা হিসেবে এবং জনপ্রিয় আইকন হিসেবে তিনি সচেতন যে, তাঁর গান ছোট ছোট শিশুদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গানের কথায় অশালীনতা থাকলে তা শিশুদের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিল্পী হিসেবে তিনি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন যেখানে সংখ্যা বা অর্থের চেয়ে মনের তৃপ্তি তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, ভালো সুর আর সুন্দর কথা ছাড়া গানের প্রাণ বাঁচে না।
২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অগ্নিপথ’ সিনেমায় ক্যাটরিনা কাইফের ওপর চিত্রায়িত ‘চিকনি চামেলি’ গানটি ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল। শ্রেয়া ঘোষালের গায়কী সেখানে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল ঠিকই, কিন্তু গানের কথা নিয়ে সেই সময় অনেক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেই হয়তো শিল্পী এখন থেকে এই ধরনের ‘আইটেম নম্বর’ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সংকল্প নিয়েছেন।
বলিউড বা টলিউডে যখন ‘ভিউ’ এবং ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশায় চটুল গানের রমরমা, তখন শ্রেয়ার মতো একজন শীর্ষস্থানীয় গায়িকার এই অবস্থান অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এতে করে গীতিকার এবং সুরকাররা ভালো মানের কথা ও সুর তৈরির দিকে আরও মনোযোগী হবেন।
শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, “আমি আমার কেরিয়ারে অনেক ধরনের গান গেয়েছি। কিন্তু এখন আমি সেই গানগুলোই বেছে নিতে চাই যা আমি সপরিবারে বসে শুনতে পারব। আমি চাই মানুষ আমাকে ভালো সুর আর পরিচ্ছন্ন গায়কীর জন্যই মনে রাখুক।”
