“আমি যুদ্ধবিরতি চাই না, আমরা জিতেই গিয়েছি”: ইরানের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ট্রাম্পের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কোনোভাবেই পিছু হটতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় বসার পথ খোলা থাকলেও এই মুহূর্তে যুদ্ধ থামানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক শক্তির আঘাতে ইরান এখন কার্যত পঙ্গু।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টানা তিন সপ্তাহের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ”ওদের নৌসেনা নেই, বায়ুসেনাও নেই। এমনকি লড়াই করার মতো অস্ত্রও অবশিষ্ট নেই। যখন প্রতিপক্ষ প্রায় কাবু হয়ে পড়েছে, তখন কেন আমি যুদ্ধবিরতি চাইব? আমার মনে হচ্ছে আমরা জিতেই গিয়েছি।” পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি আরও যোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের “সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা” উপড়ে ফেলাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান জুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভয়াবহ যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই উত্তপ্ত গোটা বিশ্ব। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তেহরানসহ ইরানের একাধিক কৌশলগত এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ট্রাম্পের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধ নয়, বরং পরমাণু শক্তিধর একটি দেশকে থামানোর লড়াই।
যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ের দাবি করলেও কূটনৈতিক স্তরে ট্রাম্প কিছুটা কোণঠাসা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের অভিযোগ, ন্যাটো দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে আমেরিকার পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে না। অথচ যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে তারাই সবার আগে অভিযোগ জানাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই ‘একলা চলো’ নীতি এবং যুদ্ধবিরতিতে অনীহা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে মিত্র দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা, অন্যদিকে ইরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার সংকল্প— সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন দাবার চাল চালছেন।
