আজকের দিনেভারত

​জ্বালানি তথ্য এখন ‘জাতীয় নিরাপত্তা’: যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপে আমদানিতে টান, সিলিন্ডার নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব আছড়ে পড়ল ভারতের জ্বালানি নীতিতে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এবার দেশের জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ হিসেবে ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির সমস্ত ‘রিয়েল-টাইম’ তথ্য সরাসরি কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় বিঘ্ন ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তথ্য গোপনীয়তার এই কঠোর সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত অভাব ও সংকট আড়াল করতেই ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র দোহাই দিয়ে তথ্য গোপন করতে চাইছে কেন্দ্র। পাল্টা যুক্তি দিয়ে সরকারের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই এই কেন্দ্রীয় নজরদারি প্রয়োজন।
​শুক্রবার বিভিন্ন মন্ত্রকের এক সম্মিলিত সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। সংকটের আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক একসাথে একাধিক সিলিন্ডার বুক করায় চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। যদিও বর্তমানে এই প্রবণতা কিছুটা কমেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনও ‘চিন্তাজনক’ বলেই মনে করছে প্রশাসন।
সংকটের মূল কারণগুলি হলো- 
আমদানিতে নির্ভরতা: ভারত মূলত উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে গ্যাস আমদানি করে, যা যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
বিকল্পের সন্ধান: পরিস্থিতির সামাল দিতে আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
​মজুতদারি: কিছু এলাকায় সিলিন্ডার মজুত করার প্রবণতা সংকটকে আরও গভীর করেছে।
​এলপিজির ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্র বিকল্প জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ​প্রায় ৭,৫০০ গ্রাহককে ইতিমধ্যেই পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস সংযোগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ​দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিকল্প আমদানির উৎস খোঁজার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। ​শহরাঞ্চলের গ্যাস এজেন্সিগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও, অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা সচল থাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে মন্ত্রক। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার এবং অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *