খড়গপুরে ফিরলেন দিলীপ, বাদ পড়লেন হিরণ; দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কই কি কাল হলো বিজেপি বিধায়কের?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক। খড়গপুর সদর আসনে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে প্রার্থী করা হলো দলের অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষকে। সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার জেরে হিরণের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর তা আরও জোরালো হলো।
গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও কন্যার পুলিশি অভিযোগ এবং বিবাহবিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয় বিয়ের খবর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সোমবার বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় হিরণের নাম না থাকা এবং তাঁর জেতা আসনে দিলীপ ঘোষকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ‘ব্যক্তিগত বিতর্ক’ই হিরণের টিকিট পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল?
মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চেনা মেজাজে ধরা দেন দিলীপ ঘোষ। হিরণের প্রার্থী না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”কে কাকে বিয়ে করবে, কী হবে—তা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আপনারা ওকেই জিজ্ঞেস করে নিন। তবে গত নির্বাচনে হিরণ নিজের এলাকার বাইরে (ঘাটাল) লড়েছিলেন। এবারও দল তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে, তা নেতৃত্বই বলতে পারবে।” দিলীপ বাবু দলের কর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে রাহুল সিনহার উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর মতে, দল সবাইকে যোগ্য সময়ে সম্মান দেয়, তাই নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখা উচিত।
২০১৬ সালে খড়গপুর সদর থেকে জিতেই দিলীপ ঘোষের বিধানসভায় যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২১ সালে সেখানে তাঁর পরিবর্তে হিরণকে প্রার্থী করা হলেও দিলীপের অনুগামীরা তা সহজে মেনে নিতে পারেননি। দীর্ঘ সময় কোণঠাসা থাকার পর, চব্বিশের লোকসভা ভোটের ধাক্কা সামলে দল আবার সেই চেনা মেজাজের ‘দাবাং’ নেতার ওপরেই আস্থা রাখল।
অতীত লিড: গত নির্বাচনে খড়গপুর থেকে বিজেপি প্রায় ৪৫,০০০ ভোটের লিড পেয়েছিল।
বর্তমান লক্ষ্য: দিলীপ ঘোষের দাবি, এবার কর্মীরা এক লাখ ভোটের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন।
প্রচার কর্মসূচি: বুধবার থেকেই খড়গপুরে পুরোদমে প্রচারে নামছেন তিনি।
হিরণের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, কিংবা দল তাঁকে অন্য কোথাও জায়গা দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত খড়গপুরের রাশ যে দিলীপ ঘোষের হাতেই ফিরল, তা স্পষ্ট।
