আজকের দিনেতিলোত্তমা

সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও ডিএ-জট, সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ- রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রদান নিয়ে জট কাটছেই না। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা মেটানো সম্ভব নয় জানিয়ে শীর্ষ আদালতে অতিরিক্ত সময় চাইল রাজ্য সরকার। আর সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে সরকারি অফিসগুলোতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ সহ বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন।

​গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ডিএ কর্মীদের আইনি অধিকার এবং তা দিতেই হবে। আদালতের নির্দেশ ছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মেটাতে হবে।
​প্রথম কিস্তি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ, ২০২৬। ​বাকি হিসেব নিকেশের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। ​তবে রাজ্য সরকার সম্প্রতি আদালতকে জানিয়েছে, ৩ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মীর নথিপত্র খতিয়ে দেখতে সময় লাগছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের আগের তথ্যগুলো ডিজিটাল না হওয়ায় এবং হাতে লেখা ‘সার্ভিস বুক’ পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই কারণ দেখিয়েই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে নবান্ন।

​রাজ্য সরকারের এই আবেদনে চরম হতাশ ও ক্রুদ্ধ সরকারি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, আইনি জটিলতা দেখিয়ে বারবার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হচ্ছে। কর্মচারী নেতাদের দাবি, একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে বছরের পর বছর বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাঁদের। ​”প্রযুক্তিগত অজুহাত দিয়ে কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আগামী ১৩ মার্চ আমরা রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।” — আন্দোলনরত এক কর্মচারী নেতা। রাজ্য বনাম সরকারি কর্মচারীদের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এই ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’র যুক্তি মেনে নেয় নাকি কড়া পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *