আজকের দিনেভারত

Cyber Crime-Website-Hotel : নামী হোটেলের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট, ৮৩ জনের কাছ থেকে ১৩ লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল এক সুপরিকল্পিত সাইবার প্রতারণা চক্র। নামী ও জনপ্রিয় হোটেলের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগে অবশেষে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত হুজাইফা শাব্বির দরবার (৪১)। মঙ্গলবার ভোররাতে মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের ফাঁদে পড়ে এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অন্তত ৮৩ জন মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, মোট প্রতারণার অঙ্ক ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩ টাকা।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মে মাসে। কলকাতার পুর্ব বড়িশার বাসিন্দা দেবজ্যোতি মল্লিক পুরীর একটি হোটেলে থাকার জন্য অনলাইনে বুকিং করতে গিয়ে একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন—

www.purihotelkolkatabookingoffice.com।

প্রথমে ‘বুকিং ভেরিফিকেশন’-এর অজুহাতে তাঁকে মাত্র ১ টাকা পাঠাতে বলা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ‘UPI ব্যর্থ হচ্ছে’, ‘সার্ভার সমস্যা’, ‘ম্যানেজারের নির্দেশ’—এইসব অজুহাতে একাধিক কিস্তিতে মোট ৪,৪৮০ টাকা আদায় করা হয়।

পুরো সময় জুড়ে ফোনে যোগাযোগ রেখে অভিযুক্তরা নিজেদের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার ও সিনিয়র ম্যানেজার পরিচয় দেয়। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে হোটেলের ঘরের ছবি পর্যন্ত পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর কোনও বুকিং কনফার্মেশন দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোন নম্বর বন্ধ এবং সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী প্রথমে জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টাল (এনসিআরপি)-এ অভিযোগ দায়ের করেন এবং ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় থানায় জিডি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কিউআর কোড, মোবাইল নম্বর ও ডোমেন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত সাইবার জালিয়াতি চক্র।

তদন্তে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট ভুয়ো ওয়েবসাইটটি হোস্ট করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক ডোমেন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে। ডোমেন রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত একটি ই-মেল আইডি এবং আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা পুণের এক ওয়েব আইটি ৷  সন্ধান পান।

কলকাতা থেকে মহারাষ্ট্র পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।

সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি মোবাইল ফোন,একটি ল্যাপটপ,একটি পেন ড্রাইভ (সার্ভার সংক্রান্ত ডেটা সম্বলিত)। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এরপর ধৃতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৪৩,ধারা ৬৬,ধারা ৬৬সি,ধারা ৬৬ডি,এছাড়াও বিএনএস ২০২৩ অনুযায়ী একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা,আর কত ভুয়ো ওয়েবসাইট চালু ছিল

বিদেশি সার্ভার বা ভুয়ো কল সেন্টার ব্যবহৃত হয়েছে কিনা এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে জেরা করা হতে পারে।

কলকাতা পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন হোটেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট যাচাই করুন এবং অচেনা কিউআর কোডে টাকা পাঠাবেন না। সন্দেহ হলে ১৯৩০ নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *