আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

CPIM : অনুমতি ছাড়া সমাবেশে সেলিম-সহ ৩৩ সিপিএম নেতার নামে মামলা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সরকারি অনুমতি না নিয়ে মালদহ শহরে সমাবেশ ও মিছিল করার অভিযোগে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ মোট ৩৩ জন বামনেতা ও নেত্রীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে মালদহ জেলা পুলিশ। এই মামলাগুলি করা হয়েছে জামিন অযোগ্য ধারায়।

পুলিশের অভিযোগ, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া মালদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সমাবেশ করা হয়। এর ফলে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। অফিসযাত্রী, রোগী নিয়ে যাওয়া গাড়ি, ছোট যানবাহন—সবই আটকে পড়ে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় শুধু যান চলাচলই ব্যাহত হয়নি, আইনশৃঙ্খলারও সমস্যা তৈরি হয় এবং পুলিশকে সরকারি কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর সমাবেশ শেষে পুলিশের এক আধিকারিক ইংলিশবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করেছে। মামলার তালিকায় মহম্মদ সেলিম ছাড়াও রয়েছেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে, শতরূপ ঘোষ, জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র-সহ মোট ৩৩ জন নেতা-কর্মী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে শহরে বেআইনিভাবে বাইক মিছিলের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। মোট ২৩টি মোটরবাইক চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই বাইকগুলি নিয়ে অনুমতি ছাড়া শহরের রাস্তায় মিছিল করা হয়েছিল। তাই মামলায় বাইকগুলির মালিকদের নামও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১২০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। মালদহের সিপিএম জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র বলেন, “এই ধরনের মামলা করে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা ভয় পাই না। মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নেমেই এর জবাব দেব।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার জন্য মহকুমা শাসক ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। সিপিএমের তরফে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এই সমাবেশ হয়। অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এই সমাবেশ করা হয়। সমাবেশের জেরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় শহরের প্রধান রাস্তাগুলি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শহরে ঢোকার এবং বেরোনোর রাস্তা আটকে পড়ে। বহু মানুষকে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সমাবেশ শেষ হওয়ার পরও অনুমতি ছাড়া শহরের রাস্তায় মিছিল করেন মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বাম নেতৃত্ব। সেই সময়েও আবার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জানা যায়, এর আগে জেলা সিপিএম মালদহ শহরের বৃন্দাবনী ময়দানে সভা করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেই মাঠ আগে থেকেই একটি সংস্থার নামে বুক করা থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর বাম নেতৃত্ব হাই কোর্টে যায়। আদালত বৃন্দাবনী ময়দানের বদলে মালদহ কলেজ মাঠে সভা করার কথা বলে। কিন্তু পরে জানা যায়, মালদহ কলেজে তখন পরীক্ষা চলছিল। সেই কারণে সেখানে সভা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত হাই কোর্ট কোনও জায়গারই অনুমতি দেয়নি।

অভিযোগ, অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও জেলা সিপিএম নেতৃত্ব মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে, শতরূপ ঘোষ, জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *