ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ ও অভিষেকের ‘অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ’ দাবি: সরাসরি সংঘাতে কমিশন ও তৃণমূল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতি। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এখন তুঙ্গে। একদিকে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, অন্যদিকে সরাসরি উত্তর না দিয়েও কমিশনের কড়া বার্তা— সব মিলিয়ে ভোটের আগেই পারদ চড়ছে রাজ্যে।
সূত্র অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বর্তমানে বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ অবস্থায় রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ইস্যুতে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কেন্দ্রের সরকার কমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে।
মঙ্গলবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি উঠলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ( জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম নেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ছিল কড়া হুঁশিয়ারি। জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক নেতারা কে কী বলছেন, তার জবাব দেওয়া কমিশনের কাজ নয়। কমিশন সংবিধান মেনে চলে। নাম না করে তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি ভোটারদের ভয় দেখান বা হুমকি দেন, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” অভিষেকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ (ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্থগিত) নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। “নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও আইন মেনে চলবে। আইন ভাঙার চেষ্টা হলে বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — জ্ঞানেশ কুমার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আশঙ্কার মেঘ কাটাতে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না।” তিনি বাংলার ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর বিশেষ স্লোগান: ‘চুনাও পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। সকলে নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন।’
তৃণমূলের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের এই অনমনীয় অবস্থানের পর রাজ্যের নির্বাচনী লড়াই যে আরও জটিল হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন আগামী দিনে আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
