বাংলায় কি জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন—এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি ফের জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এই জল্পনাকে উসকে দিয়েছে।
কেন উঠছে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিক জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজ্যে যদি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না হয়, তবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করানো উচিত। তার মতে, রাজ্যে বর্তমানে ‘সাংবিধানিক সংকট’ তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের প্রধান অভিযোগগুলি হলো ঠিক কী? আইনশৃঙ্খলার অবনতি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং অশান্তির ঘটনা। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক। ২০২৬ সালের ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়া সঠিক সময়ে শেষ না হলে নির্বাচনের সময়সীমা পিছিয়ে যেতে পারে।
রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। অর্থাৎ ২ মাসের মধ্যে যা করার করতে হবে। এমত অবস্থায়, বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর, হঠাৎ করেই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়, তারপরই এই ইস্তফা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে, নয়া রাজ্যপাল হচ্ছেন আরএন রবি। এরপর থেকেই বাড়ছে জল্পনা। রাজ্যপাল বদলে জল্পনা বেড়েছে আরও। কারণ এই পরিস্থিতি এমন একজনকে রাজ্যপাল হিসেবে প্রয়োজন যাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা থাকবে, সেই সঙ্গে থাকতে হবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও। সেই অঙ্কেই হয়ত পিছিয়ে পড়ছেন সি ভি আনন্দ বোস।
ভারতের সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতি মনে করেন যে কোনো রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সংবিধান মেনে চলছে না, তবে তিনি সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের এস. আর. বোম্মাই মামলার রায় অনুযায়ী, চাইলেই হুট করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা এখন আর সহজ নয়। এর জন্য উপযুক্ত প্রমাণ এবং সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই দাবিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি গণতান্ত্রিকভাবে লড়তে ভয় পাচ্ছে বলেই রাষ্ট্রপতি শাসনের ভয় দেখাচ্ছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল আরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে এবং নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ভোট পেছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংকেত দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে যদি নতুন সরকার গঠন না করা যায় (যদি ভোট পিছিয়ে যায়), তবে সাময়িকভাবে শাসনভার রাষ্ট্রপতির হাতে যাওয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
