আজকের দিনেতিলোত্তমা

৫ বছরের শিশুকে অবিলম্বে কানাডায় ফেরানোর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাবা ও মায়ের তিক্ত সম্পর্কের টানাপোড়েনে কার্যত দিশেহারা পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা। কানাডার নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে কলকাতায় থাকা ওই শিশুকে দ্রুত সে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুটিকে অবিলম্বে কানাডায় ফেরত পাঠানোই উচিত।

​আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা কানাডায় থাকেন এবং মা সেখানে ‘ব্যাঙ্ক অফ কানাডা’য় চাকরি করতেন। অভিযোগ, কানাডার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে কলকাতায় নিয়ে চলে আসেন তাঁর মা। বর্তমানে শিশুটি দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর এলাকায় তাঁর মায়ের কাছে রয়েছে। এমনকি ভারতে থাকার জন্য শিশুটির ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি বাবার আইনজীবীর।
​বাবার তরফে আদালতে অভিযোগ করা হয়, ​মা সুকৌশলে সন্তানকে বাবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন।শিশুর ভারতীয় নাগরিকত্বের  মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও তাকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আগে একবার শপিং মলে দেখা করার সুযোগ দিলেও, মা ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন।

​উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি দেবাংশু বসাক জানান, শৈশব এভাবে দাম্পত্য কলহের শিকার হতে পারে না। তিনি নির্দেশ দেন,
​ শিশুটিকে দ্রুত কানাডায় ফেরাতে হবে। মা নিজে সঙ্গে যাবেন নাকি একা পাঠাবেন, তা স্থির করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। যতদিন না শিশুটি কানাডায় যাচ্ছে, ততদিন তার সমস্ত দায়িত্ব থাকবে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির ওপর। শিশুটির সাথে বাবার নিয়মিত কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে। মা বা তাঁর পরিবারের কেউ কথা বলার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

​বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, শিশুটি প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঠাকুরপুকুরের প্লে-স্কুলে উপস্থিত থাকবে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে যে কোনো সময় ভিডিও কলে সে বাবার সাথে কথা বলবে। এই সময় স্কুলের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, যাতে কোনোভাবে মা বা আত্মীয়রা ওই খুদেকে প্রভাবিত করতে না পারেন। কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইসের (মোবাইল বা ট্যাব) ব্যবস্থা মাকেই করতে হবে। ​”মায়ের কাছ থেকে শিশুকে নিয়ে নেওয়া হলে তাঁর ট্রমা তৈরি হবে,” মায়ের আইনজীবীর এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *