আজকের দিনেভারত

Budget 2026 : বাজেটে কি জনমুখী হল !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-  ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬-২৭ পেশের ঠিক আগে অর্থমন্ত্রকের সামনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী এবং অর্থমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত হয় বাজেটের রূপরেখা। বাজেট পেশের দিন প্রথা মেনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে দই-চিড়ে খাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় বাজেট দিবসের আনুষ্ঠানিকতা।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা এবং একই সঙ্গে স্থিতিশীল ও টেকসই বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ এই সব কিছুর মধ্যেই এবারের বাজেট পেশ করল কেন্দ্র সরকার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ২০২৬-২৭ শুধুমাত্র করছাড় বা স্বল্পমেয়াদি সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, কর ব্যবস্থার সহজীকরণ, নীতিগত স্থায়িত্ব ও আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে শুধুমাত্র হিসেব-নিকেশের দলিল না বলে ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি নীতিগত মানচিত্র হিসেবেই তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কর, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবহণ এবং শিল্প প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে বাজেটে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে দাবি কেন্দ্রের।

বাজেট ভাষণের অন্যতম বড় ঘোষণা আসে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট ও বিরল খনিজ উৎপাদন ঘিরে। দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে নবমবার বাজেট পেশ করে নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন, তামিলনাড়ু, কেরল, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ—এই চার রাজ্যে তৈরি হবে রেয়ার আর্থ করিডর। খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা এবং উৎপাদনে এই রাজ্যগুলিকে উৎসাহিত করা হবে।

এই বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা বলেন, “বিরল খনিজ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু করা হয়েছিল। খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্য ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুকে খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা এবং উৎপাদনে উৎসাহিত করতে রেয়ার আর্থ করিডর স্থাপন করার প্রস্তাব করছি।” উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেই ৭২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ছাড়পত্র দিয়েছিল কেন্দ্র। চিনের উপর বিরল খনিজ আমদানির নির্ভরতা কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বলতে মোট ১৭টি ধাতুকে বোঝায়, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যান, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বিমান পরিষেবা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চিন এই শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। বৈশ্বিক খনি উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং পরিশোধিত ও রেয়ার আর্থ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের এই উদ্যোগকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পণ্য পরিবহণে বাংলা ও গুজরাটকে যুক্ত করে হুগলির ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজেটে ঘোষণা করা হয় বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডর।

এছাড়া দেশজুড়ে মোট সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান নির্মলা সীতারামন। এই করিডরগুলি হলো—মুম্বই-পুণে, পুণে-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-চেন্নাই, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি।

এই করিডরগুলির মাধ্যমে অর্থনৈতিক হাব, তথ্যপ্রযুক্তি হাব, পরিকাঠামো ক্লাস্টার ও উন্নয়নশীল শহরগুলিকে সংযুক্ত করা হবে। এতে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর।

ভোটমুখী বাংলা রাজ্যের জন্য ফ্রেট করিডরের ঘোষণাকে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার ঘোষণাও করা হয়েছে। এই জলপথগুলি সড়ক পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে সারা দেশে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবহণ ব্যবস্থা যত মসৃণ হবে, বিনিয়োগ ততই বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা সবসময় পণ্য পরিবহণের সহজলভ্যতার দিকে নজর রাখেন।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ছোট শহরগুলিতেও পণ্য পরিবহণের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পাঁচটি শিল্পতালুকের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাংলার জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা হিসেবে দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবের কথাও জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হলো মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ যোজনা। মনরেগা অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি আইন পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)—ভিবি-জি আরএএমজি বা ‘জি রাম জি’ আইন চালু করা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, গান্ধীজির নাম সরাতেই এই আইন আনা হয়েছে এবং তা অসাংবিধানিক।

এই পরিস্থিতিতেই বাজেটে খাদি ও বস্ত্রশিল্প উন্নয়নের জন্য গান্ধীর নামে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন নির্মলা সীতারামন। খাদি ও তাঁতশিল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ মোড টেক্সটাইল পার্ক তৈরির প্রস্তাব করছি। খাদি এবং তাঁতশিল্পের উন্নতির জন্য মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প শুরু করার প্রস্তাব করছি।”

অর্থমন্ত্রী বাজেট ভাষণে আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশ হবে। ১৬তম ফিনান্স কমিশনের সুপারিশ মেনে রাজ্যগুলিকে মোট আয়ের ৪১ শতাংশ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা।

১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন আয়কর আইন। কর পরিকাঠামো আরও সহজ করতে একাধিক ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় প্রাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ করমুক্ত করা হয়েছে। আইটি রিটার্ন জমার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এবার স্বল্প জরিমানায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন রিভাইজ করা যাবে, যেখানে আগে সময়সীমা ছিল ৩১ ডিসেম্বর।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তিনটি নতুন অল ইন্ডিয়া আয়ুর্বেদ ইন্সটিটিউট, আয়ুষ ফার্মাসি ও ল্যাব আধুনিকীকরণ এবং জামনগরে প্রথাগত চিকিৎসা কেন্দ্র আধুনিকীকরণের ঘোষণা করা হয়েছে।

চাকরি ও কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বুঝতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, MSME সেক্টরের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিকশিত ভারত ২০২৭-এর লক্ষ্য সামনে রেখে আত্মনির্ভরতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকেই স্পষ্ট বার্তা দিল বাজেট ২০২৬-২৭।

দাম কমলো

সস্তা হচ্ছে:

১৭টি জীবনদায়ী ওষুধ (ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের ওষুধ-সহ)

স্মার্টফোন, মোবাইলের যন্ত্রাংশ

ইলেকট্রনিক গাড়ির ব্যাটারি

চামড়ার ব্যাগ

জুতো

সি ফুড

খেলার সামগ্রী

বিদেশ ভ্রমণ

সিএনজি

সোলার প্যানেল

মাইক্রোওয়েভ

বিমানের যন্ত্রাংশ

বিড়ি

শাড়ি

দাম বাড়লো

সিগারেট

মদ

তামাকজাত পণ্য

নির্দিষ্ট কিছু খনিজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *