Birbhum : অব্রাহ্মণ শিক্ষিকার মন্ত্রে চমক !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- এবার সরস্বতী পুজোয় এক ব্যতিক্রমী ছবি দেখা গেল বীরভূম জেলার নানুর ব্লকের কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলে। স্কুলের সরস্বতী পুজোর পৌরোহিত্য করেন স্কুলেরই সংস্কৃত শিক্ষিকা মোনালিসা রায়। তিনি মহিলা এবং অব্রাহ্মণ, এই দুই পরিচয়ের কারণেই শুরুতে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পুজোর মাধ্যমে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া।যেখানে জাতপাত বা লিঙ্গভেদের কোনও জায়গা নেই।
মোনালিসা রায়ের বয়স আটত্রিশ বছর। পুজোর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি কিছুটা চিন্তায় ছিলেন। কারণ, তিনি পেশাদার পুরোহিত নন। তবুও দায়িত্বটাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পুজোর মন্ত্র, নিয়মকানুন ও আচার ঠিকভাবে শেখার জন্য তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেন।
শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিন স্কুল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল অন্যরকম উত্তেজনা। হাতেখড়ি, পুষ্পাঞ্জলি থেকে শুরু করে প্রতিটি আচার মোনালিসা রায় খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেন। তাঁর শুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণে পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষিকারা রীতিমতো অবাক হয়ে যান।
পুজো শেষে মোনালিসা রায় বলেন, “আমি অব্রাহ্মণ হলেও বাড়িতে নিয়মিত পুজো হয়। দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো—সবই পালন করা হয়। তাই পুজোর আচার একেবারে অজানা নয়। তবুও দায়িত্বটা বড় ছিল। সহকর্মীদের সহযোগিতায় কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছি।”
পড়ুয়ারাও এই অভিজ্ঞতায় খুব খুশি। একাদশ শ্রেণির দিব্য রায়, দশম শ্রেণির দেবাঞ্জন ঘোষ ও অরিত্র রায়রা জানায়,“এই পুজো আমাদের মনে থেকে যাবে। আমরা আগে এমন কিছু দেখিনি।”
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অভিনন্দা বৈরাগী বলেন,“আগে স্কুলের ব্রাহ্মণ শিক্ষকরা পুজো করতেন। তাঁরা অবসর নেওয়ায় এ বার পরিচালন সমিতি ও পুজো কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, সংস্কৃত শিক্ষিকাকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক মনোজ ঘোষ জানান,“আমাদের স্কুলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গভেদের কোনও জায়গা নেই। এই পুজোর মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাই দিতে চেয়েছি।”
স্কুলের শিক্ষক অরুণ রায় বলেন, “বৈদিক যুগে নারী-পুরুষ, ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ নির্বিশেষে পুজো করার অধিকার ছিল। সেই ঐতিহ্যই আমরা আবার সামনে আনতে চেয়েছি।”
মোনালিসার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক উজ্জ্বলকুমার রায় এবং মা চন্দ্রা রায় মেয়ের এই সাফল্যে খুব খুশি। তাঁরা বলেন,“দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন গর্ব হচ্ছে।”
এই সরস্বতী পুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সমাজের উদ্দেশে দেওয়া এক শক্তিশালী বার্তা বিদ্যার আরাধনায় কোনও জাতপাত বা লিঙ্গভেদ নেই।
