প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রতীকের কটাক্ষ, ‘যতই করো সেটিং, হবে না লোডশেডিং’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: একুশের নির্বাচনের সেই হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম লড়াইয়ের স্মৃতি কি এবার ছাব্বিশের ভবানীপুরে ফিরতে চলেছে? বিজেপি তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আর এই আবহেই বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ শানালেন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমান।
একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ভোট গণনার সময় সেই বিতর্কিত ‘লোডশেডিং’ প্রসঙ্গের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দুকে বিঁধেছেন প্রতীক। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে লোডশেডিং বাবুকে, আলো দেখানোর কত চেষ্টা চলছে। যতই করো সেটিং, হবে না লোডশেডিং। পরবর্তী অংশ… 🤐”
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, গণনার সময় আচমকা লোডশেডিং করে কারচুপি করা হয়েছিল। সেই মামলা আজও আদালতের বিচারাধীন। এবার সেই শুভেন্দু যখন মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে প্রার্থী হলেন, তখন তৃণমূল শিবির যে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ, তা প্রতীকের আক্রমণেই স্পষ্ট।
দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য থাকা প্রতীক উর রহমান ছাব্বিশের ভোটের ঠিক আগেই ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। দল বদলালেও তাঁর আক্রমণের ধার কমেনি। নন্দীগ্রামের জয়কে ‘লোডশেডিং’-এর জয় বলে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকেও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেছেন এই যুব নেতা।
সুযোগ পেলেই নিজের প্রাক্তন দলকেও বিঁধতে ছাড়ছেন না ডায়মন্ড হারবারের এই নেতা। তৃণমূল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে ভবানীপুরে ‘দিদি’ বনাম ‘শুভেন্দু’র লড়াই নিশ্চিত ধরে নিয়েই এখন সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল। প্রতীকের এই ‘সেটিং ও লোডশেডিং’ মন্তব্য সেই উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
