২৬-এর মহাযুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছেন না সেলিম-সুজন? মীনাক্ষীকে সামনে রেখেই রণকৌশল আলিমুদ্দিনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি তবে ‘ভোটকুশলী’ বা প্রধান প্রচারকের ভূমিকাতেই দেখা যাবে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে? আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে কান পাতলে এখন এই চর্চাই তুঙ্গে। বুধবার রাজ্য সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকের পর যে তথ্য সামনে আসছে, তাতে স্পষ্ট যে সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তী সম্ভবত এবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াই থেকে দূরে থাকছেন। পরিবর্তে, দলের তরুণ মুখ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই ঘুঁটি সাজাচ্ছে বামেরা।
সূত্রের খবর, দলের একটি বড় অংশ চাইছে সেলিম রাজ্যজুড়ে প্রচারের দায়িত্ব সামলান। লোকসভা বা বিগত নির্বাচনগুলিতে হারের রেকর্ড এবং জোট রাজনীতির বিতর্ক এড়িয়ে এবার সংগঠনকে চাঙ্গা করতেই বেশি জোর দিতে চাইছেন তিনি। অন্যদিকে, সুজন চক্রবর্তীকে প্রার্থী করার পক্ষে দলের একাংশ মত দিলেও, তিনি নিজেও লড়ার চেয়ে প্রচারের দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী।
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়: উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে তাঁর লড়াই প্রায় নিশ্চিত।
পলাশ দাস: উত্তর ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ কোনো আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন।
আভাস রায়চৌধুরী: প্রাক্তন এই যুব নেতাকেও এবার নির্বাচনী ময়দানে দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
সেলিমকে নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। মুর্শিদাবাদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে তাঁর তথাকথিত ‘গোপন যোগাযোগ’ নিয়ে দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হওয়ায় প্রার্থী হওয়ার দৌড় থেকে তিনি কার্যত পিছু হঠছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন রফা নিয়ে জটিলতা কাটছে না। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দল কড়া অবস্থান নিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৮টি আসন দাবি করেছে আইএসএফ। দুই ২৪ পরগনাতেই কোনো রকম আপস করতে নারাজ তাঁরা।
শুধু আইএসএফ নয়, বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। আগামী ১৬ বা ১৭ মার্চ বামফ্রন্টের পরবর্তী বৈঠকে এই আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে সব মিলিয়ে ২৬-এর নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন ও জোট গঠন—উভয় ক্ষেত্রেই এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আলিমুদ্দিন।
