বন্দে মাতরম’ নিয়ে জোটসঙ্গীর বিদ্রোহ: নাগাল্যান্ডে ব্রাত্য কেন্দ্রের নির্দেশিকা!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লিঃ- দেশজুড়ে সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল বিজেপিরই জোটসঙ্গী। নাগাল্যান্ডের শাসক দল নাগা পিপলস ফ্রন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নাগা জনগণের ওপর জোর করে হিন্দু দেবদেবীর আরাধনা সংবলিত কোনো গান বা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এর ফলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা নিয়ে খোদ এনডিএ শিবিরের অন্দরেই ফাটল দেখা দিল।
গত মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, সব সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুল-কলেজে জাতীয় সংগীতের পর ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এবং পদ্ম পুরস্কারের মতো অনুষ্ঠানেও এই গান বাধ্যতামূলক।
১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত পাল্টে এখন থেকে গানটির ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে।
নাগাল্যান্ডের শাসক দল এই নির্দেশিকাকে ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এই নির্দেশিকা নাগা জনগণের ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতি ও প্রথাগত আইনকে দেওয়া বিশেষ সুরক্ষা কবচ বা ৩৭১(এ) ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। নাগাল্যান্ডের সিংহভাগ মানুষ খ্রিস্টান। ‘বন্দে মাতরম’ গানে হিন্দু দেবদেবীর আরাধনা ও মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে, যা খ্রিস্টান ধর্মের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সাথে মেলে না। সম্পূর্ণ অজানা ও অচেনা একটি সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নজিরবিহীন বলে দাবি করেছে এনপিএফ। এনপিএফ নেতৃত্বর মতে, ”নাগাল্যান্ডের মানুষের কাছে এই গান ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ অচেনা। এটি সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।” — এনপিএফ নেতৃত্ব
নাগাল্যান্ডের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন নাগা স্টুডেন্ট ফেডারেশন এই প্রতিবাদের সুর আরও চড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই গানের লিরিক্সে উপাসনা ও মন্দির তৈরির যে প্রসঙ্গ রয়েছে, তা নাগা সমাজের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করে।
বিজেপির জোটসঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও এনপিএফ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নাগাল্যান্ডে আপাতত এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়ে তারা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা যে বিজেপির ‘এক দেশ, এক নিয়ম’ নীতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত।
