হারানো গরিমা ফেরাতে এবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও এআই ও ডেটা সায়েন্স!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ- বেসরকারি কলেজগুলির বাড়বাড়ন্ত এবং গত কয়েক বছরে পড়ুয়া সংখ্যায় ঘাটতি—এই দুই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে এবার খোলনলচে বদলে যাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং আধুনিক কর্মসংস্থানের বাজারের কথা মাথায় রেখে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই একগুচ্ছ নতুন ও সমন্বিত বিষয় চালু করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, প্রথাগত বিষয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তঃবিভাগীয় বা ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি’ পাঠ্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের টানতে এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে একাধিক নতুন বিষয় আনা হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ডেটা সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ঘটানো হবে। বাণিজ্য, অর্থনীতি ও রাশিবিজ্ঞানের মিলিত একটি বিশেষ কোর্স চালু হতে পারে। জীবনবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ফরেনসিক সায়েন্সের পাঠ। কমার্সের সঙ্গে সাইকোলজি পড়ার সুযোগও মিলতে পারে। বর্তমানে এই বিষয়গুলি ‘বোর্ড অফ স্টাডিজ’-এর অধীনে আলোচনাধীন। তাই এখনই সব ক’টি বিষয়ের নাম চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, উন্নত পরিকাঠামো এবং ক্যাম্পাসিংয়ের সুযোগের টানে পড়ুয়ারা সরকারি বা সরকারপোষিত কলেজের বদলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। এই প্রবণতা রুখতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই “ঘুরে দাঁড়ানোর” চেষ্টা। বেসরকারি কলেজের সঙ্গে সিইউ কে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ইতিমধ্যেই ‘বিজনেস ম্যাথমেটিক্স’, ‘ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়া কালচার’ এবং ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স’-এর মতো আধুনিক বিষয় চালু করেছে। স্কুল স্তরে এই বিষয়গুলি পড়ে আসা ছাত্রছাত্রীরা যাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তার জন্যই এই পরিকাঠামো বদল।
নতুন পাঠ্যক্রম চালু হলেও, নতুন বিষয়ের জন্য অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হচ্ছে। তবে নতুন বিষয়ের অধ্যাপক নিয়োগের বিষয়টি কলেজগুলিকেই নিজেদের উদ্যোগে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা প্রায় ১৬৬টি কলেজে এই নতুন শিক্ষাক্রম পর্যায়ক্রমে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আধুনিকীকরণের ফলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তার হারানো গরিমা ফিরে পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
