আজকের দিনেতিলোত্তমা

‘বিচারাধীন’ অভিষেক, ‘বাদ’ শুভেন্দু; প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে চরম বিভ্রান্তি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল পোর্টালে নজিরবিহীন বিভ্রাট। মঙ্গলবার গভীর রাতে কমিশনের ওয়েবসাইট পরীক্ষা করতে গিয়ে চক্ষুচড়ক গাছ ভোটারদের। দেখা যায়, রাজ্যের প্রায় সমস্ত বৈধ ভোটারের নামের পাশেই লেখা রয়েছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’  বা বিচারাধীন। বাদ যাননি খোদ হেভিওয়েট নেতারাও— তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম ‘ডিলিটেড’ বা ‘বাতিল’ হিসেবে ফুটে ওঠে।

গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেই তালিকা দেখতে বা ডাউনলোড করতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার রাতে হঠাতই সিইও পশ্চিমবঙ্গের ওয়েবসাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সব ভোটারের স্ট্যাটাস বদলে যায়। যারা চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ‘বিচারাধীন’ হিসেবে দেখেন, তাঁদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পোর্টালে সার্চ করতেই দেখা যায়:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁর ভোটার কার্ডের নম্বর দিয়ে সার্চ করলে স্ট্যাটাস দেখাচ্ছিল ‘বিচারাধীন’।

শুভেন্দু অধিকারী: তাঁর ক্ষেত্রে দেখানো হয় যে নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বা ‘ডিলিটেড’। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। সাধারণ ভোটাররা প্রশ্ন তুলতে থাকেন, শুনানির জন্য না ডেকেই কীভাবে তাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে গেল?

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়, “পুরো বাংলাকে কমিশনের পোর্টালে বিবেচনাধীন ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।” কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জোড়াফুল শিবির। পাল্টা সাফাই দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: “এটি সম্পূর্ণ একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি । সার্ভারে সমস্যার কারণে ঘণ্টা দুয়েক ভুল তথ্য প্রদর্শিত হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ১২টার পর সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং বর্তমানে ভোটাররা সঠিক স্ট্যাটাস দেখতে পাচ্ছেন।” বর্তমানে সার্ভারের ত্রুটি মিটে গেলেও কয়েক ঘণ্টার এই বিভ্রান্তি কমিশনের সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভোটারদের একাংশের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ভুল সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *