আজকের দিনেতিলোত্তমা

কমিশনের সিদ্ধান্তে ‘বিপর্যয়ে’র আশঙ্কা শাসকদলের, মামলা হাইকোর্টে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক ও আইনি তরজা। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে একাধিক পুলিশ সুপার ও আইএএস অফিসারদের বদলি বা অপসারণের সিদ্ধান্তে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সওয়াল করলেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
​প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আশঙ্কা তুলে ধরেন।
বিপুল সংখ্যক অপসারণ: শুনানিতে জানানো হয়, ইতিমধ্যে ৬৩ জন পুলিশ অফিসার, ১৬ জন আইএএস এবং ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের হাতেই নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
​বিপর্যয়ের আশঙ্কা: বর্ষীয়ান আইনজীবী আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে যদি সমস্ত অভিজ্ঞ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে রাজ্যে কোনও বড় বিপর্যয় ঘটলে তা সামলাবে কে?”
​পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: কল্যাণবাবুর দাবি, একমাত্র বাংলাতেই এই ধরণের নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে বদলি করা হলো?
কমিশনের টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন: তাঁর অভিযোগ, আধিকারিকদের যখন এসআইআর পিরিয়ডে রাখা হয়েছিল, তখন তাঁদের কাজ নিয়ে কমিশন কোনও অসন্তোষ প্রকাশ করেনি। কিন্তু ভোট ঘোষণা হতেই গণ-অপসারণ করা হচ্ছে।
​ইতিমধ্যেই এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের তির বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, প্রশাসনিক এই রদবদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা আসার পাশাপাশি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ​”রাজ্যের অফিসারদের অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দায়ভার কে নেবে?” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই মামলা এবং অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে পালটা প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের যুক্তি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই রদবদল করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ তাদের এক্তিয়ারভুক্ত।
​আগামী পদক্ষেপ: আদালত এই বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এই প্রশাসনিক শূন্যতা ভোটের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *